শিলাবৃষ্টিতে আম-লিচুসহ ফসলের ক্ষতি

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৮ এএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গত দুদিন ধরে বইছে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর অস্বাভাবিক আকারে শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার শস্যভা-ারখ্যাত রাজিবপুর ও উচাখিলা ইউনিয়নের চরাঞ্চল এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বোঝা না গেলেও গত বুধবার সকালে ফসলি জমির বেহাল দশা দেখে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। এতে লোকসানের ভয়ে চরাঞ্চলের চাষিদের মনে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ধানের ছড়া ছাড়ার সময়ে ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে।

চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, গত মঙ্গলবার রাতের শিলাবৃষ্টিতে ধান ছাড়াও মরিচ, করলা, শসা ও বিভিন্ন জাতের শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পড়ে গেছে আম ও লিচুগাছের মুকুল। শিলাবৃষ্টির আঘাতে ফসলি জমির পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ির টিনের চাল ছিদ্র হয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে ঈশ্বরগঞ্জে ২০ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে। উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের উজানচর নওপাড়া গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন বলেন, ‘এ বছর ৯০ শতাংশ জমিতে বোরো ফসলের আবাদ করেছি। ধানগাছে এখন ছড়া আসার সময়। এ ছাড়া ৩০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছিলাম।  গত রাতে প্রচুর শিলাবৃষ্টি হয়েছে, এতে বোরো ধান ও শসাক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই মুহূর্তে শিলাবৃষ্টি ফসলের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। শিলাবৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি অনিবার্য। এ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছি।’

একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম ওরফে ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আমরা ২০০ শতাংশ জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। শিলাবৃষ্টিতে ধানগাছ ভেঙে গেছে। ৬০ শতাংশ জমিতে চাষকৃত মরিচ গাছ, ১০ শতাংশ জমির শসা গাছ এবং ২০ শতাংশ জমিতে চাষকৃত বেগুনের চারা একবারে শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া বাড়ির আমগাছ ও লিচু গাছের মুকুল এবং কুঁড়ি ঝরে পড়েছে। এতে আমরা মোটা অঙ্কের টাকার লোকসানে পড়েছি। এখন পর্যন্ত কৃষি অফিস থেকে কেউ কোন খোঁজখবর নেয়নি।’

কৃষকপুত্র জিহাদ বলেন, ‘আমাদের চরাঞ্চলে চাষকৃত বোরো ধানের ছড়া ছাড়ার সময় এখন। এখনই শিলাবৃষ্টির কারণে ফসল নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। এতে ধানের ছড়া ভেঙে গেছে। ভেঙে যাওয়া ধানের সব ছড়া মরে যাবে। এ ছাড়া শসা, মরিচ, করলা, বেগুনসহ বিভিন্ন জাতের শাকসবজির অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আজাদ সুমি বলেন, ‘উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এতে ফসলের কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠে আমাদের উপ-সহকারীরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত