কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম শুরু করেছে ভারতীয় হাই কমিশন। আজ থেকে তাই এখানকার মানুষকে ঢাকা-চট্টগ্রাম গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে না। শ্রম-সময় ও অর্থ বেঁচে গেলো সাধারণ মানুষের।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বারখ্যাত জেলাটিতে রোববার সকাল সকাল ৮ টা থেকে ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের খৈয়াসার এলাকায় ভাড়া বাড়িতে ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
রোববার দুপুরে ভিসা সেন্টার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ভিসার আবেদন জমা দিতে এসেছেন। কেউ কেউ এসেছেন খোঁজ-খবর নিতে।
সেন্টারের ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে এখানে তাপস সরকার নামে একজন ইনচার্জ ও জাহিদ হাসান নামে একজন এক্সিকিউটিভ হিসাবে কাজ করছেন। ভিসা আবেদনকারীদের তারা প্রথমদিন হিসাবে মিষ্টিমুখও করাচ্ছেন।
তারা জানান, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং সাত কার্যদিবস শেষে বিকেল সাড়ে ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হবে। চট্টগ্রাম সহকারী হাই কমিশন অফিস থেকে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রতিদিনই গাড়ি এসে পাসপোর্ট চট্টগ্রাম নিয়ে যাবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্থলবন্দর থাকায় প্রতিদিন এ এলাকার প্রচুর মানুষ ভারতে যাতায়াত করেন। ২০১৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (চট্টগ্রাম) সোমনাথ হালদারকে আমন্ত্রণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুধী সমাবেশে সেখানে ভিসা সেন্টার করার আবেদন করা হয়। তিনিও এখানে ভিসা সেন্টার করার আশ্বাস দেন। এরপর থেকেই অপেক্ষার পালা শুরু।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বারের সাবেক সভাপতি তানজিল আহমেদ জানান,ভিসা সেন্টারের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছি। শ্রী সোমনাথ হালদারের ঘোষণা অনুসারেই আজ ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরা ভীষণ খুশি এ কার্যক্রমে আমাদের ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে উপকৃত হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী বলেন,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করলো ভিসা সেন্টার। ঢাকা-চট্টগ্রামের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেলাম আমরা। আমাদের অর্থ,সময় দুটোই কমে গেলো।