সংলাপে আগ্রহ ড. কামালের

নির্বাচনের আগে সংলাপে বসা রাজনৈতিক দলগুলোকে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ‘সংলাপের ডাক দেওয়ার সিদ্ধান্তকে’ ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও আলোচনার বিষয় সম্পর্কে জানার পরই তাতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল রবিবার দুটি গণমাধ্যমকে দেওয়া ভিন্ন সাক্ষাৎকারে সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক সংলাপের বিষয়ে এই সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করেন।

বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে তিনি বলেছেন, ‘কার্যকর পথে আরেকটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাই। এখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংলাপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করি এবং নিশ্চিতভাবেই এটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।’

ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংলাপের আমন্ত্রণ পেলে জোটের নেতারা একসঙ্গে বসে আলোচ্য বিষয় কী হতে পারে তা নির্ধারণ করবেন। দেশের মানুষের জন্য এই সংলাপের ফল ইতিবাচক হবে বলে মনে করেন কামাল হোসেন। তবে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিছুটা সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডাকবেন সংলাপে, একটু তো ইঙ্গিত থাকবে কী কী বিষয় নিয়ে এই সংলাপ। যদি সেটা আমাদের কাছে বিবেচনাযোগ্য হয়, তখন আমরা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেব এ ব্যাপারে।’

তিনি বলেন, সংলাপে যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তারা প্রথম নিজ দল গণফোরাম থেকেই নেবেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের অবস্থার সঙ্গে এখনকার অবস্থার একটা পার্থক্য রয়েছে। কাজেই যেকোনো প্রস্তাবের ব্যাপারে এখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে।

সেক্ষেত্রে বিএনপি যখন এই সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন গণফোরাম সংলাপ যাবে কি না জানতে চাইলে কামাল বিবিসিকে বলেন, ‘এটা একদম স্পেকুলেট করা উচিত নয়। এটা যখন ঘটবে তখন আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

এর আগে রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভার আগে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল, তাদের আবার আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্টসহ ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গণভবনে সংলাপ হয়েছিল।