ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের অভিযোগ

সাভার-আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত বিজিবির সঙ্গে থাকা এক মেজরের বিরুদ্ধে একই স্থানে দায়িত্বরত এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার সকালে সাভারের উলাইল এলাকার আল-মুসলিম গ্রুপের একটি কারখানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। কয়েকটি জেলায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের খবর পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিজিবির নিজস্ব মিডিয়া উইং আছে। এ বিষয়ে তারা বলতে পারবেন। আমরা বিজিবির কোনো বিষয় দেখি না।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহসিন রেজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে শুনেছি। এ ব্যাপারে সংস্থার পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

ঘটনার শিকার ম্যাজিস্ট্রেটের নাম রাজিবুল ইসলাম। তিনি ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার। যে মেজরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার নাম রহমত। তিনি বিজিবির ঢাকা সেক্টর সদর দপ্তরে কর্মরত বলে জানা গেছে। ওই ম্যাজিস্ট্রেট গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আমজাদুল হক। 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও পানিসম্পদ সচিব কবীর বিন আনওয়ার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। রহমত নামে একজন মেজরের বিরুদ্ধে রাজিবুল নামে এক সহকারী কমিশনারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুরো বিষয়টি সম্পর্কে খোলাসা হওয়া যাবে। অপরাধী যেই হোক তার শাস্তি হবে বলে আমরা আশাবাদী।

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ রাসেল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভার উপজেলায় ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। রবিবার সকালে বিজিবির একটি দলের সঙ্গে সাভারের উলাইল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিবুল ইসলাম। সেখানে বিজিবির দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মেজর রহমত। দায়িত্ব পালনের সময় বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতন্ডার ঘটনায় রাজিবুলকে মারধর করেন বিজিবির মেজর রহমত। বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। তারা আইনসম্মত সমাধানের চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া ঘটনায় রাজিবুল জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

ঘটনার উল্লেখ করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া প্রতিবেদনে রাজিবুল ইসলাম লিখেছেন, আল-মুসলিম কারখানার ভেতরে ওই কক্ষে মেজর রহমত তার অধীন বিজিবির দুই সদস্যকে ডেকে বলেন পরিস্থিতি খারাপ হলে সরাসরি গুলি করতে হবে, পরে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন। বিষয়টির প্রতিবাদ করে রাজিবুল বলেন, নিয়মানুযায়ী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়েই গুলি করতে হবে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে মেজর রহমত চড়াও হন রাজিবুলের ওপর। তাকে কিল-ঘুসি-লাথি মেরে আহত করেন। রাজিবুল কোনোরকমে ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে রাখা গাড়ির কাছে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে জেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।