দক্ষিণ আফ্রিকায় হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান

সান্ত্বনার মতো কিছুও পাওয়া হলো না পাকিস্তানের। দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট হেরে আগেই সিরিজ খোয়ায় দলটি। সেঞ্চুরিয়ন ও কেপটাউনের পর জোহানেসবার্গে সিরিজের তৃতীয় টেস্টেও প্রতিপক্ষের কাছে পরাভূত অতিথি দলটি।

সোমবার জোহানেসবার্গ টেস্টে পাকিস্তানকে দেড় দিন সময় হাতে রেখেই ১০৭ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে তিন টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পুড়েছে সফরকারী পাকিস্তান।

জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হতো রেকর্ড। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সের এই মাঠে চতুর্থ ইনিংসে ৩১০ রানে বেশি করে জয়ের রেকর্ড নেই। সেখানে ৩৮১ রানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সামনে।

আগের দিন ৩ উইকেটে ১৫৩ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে পাকিস্তান। জয়ের জন্য আরো ২২৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে সোমবার চতুর্থ দিনের ব্যাটিং শুরু করে দলটি। হাতে ছিল ৭ উইকেট। কিন্তু পাকিস্তান আর মাত্র ১২০ রান যোগ করতে পেরেছে স্কোর বোর্ডে। গুটিয়ে গেছে ২৭৩ রানে।

আগে ব্যাট করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৬২ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ১৮৫ রানে। প্রথম ইনিংসে ৭৭ রানের লিড পাওয়া প্রোটিয়ারা দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০৩ রান করে। কুইন্টন ডি কক খেলেন ১২৯ রানের ইনিংস।

পুরো সিরিজে প্রোটিয়া পেসারদের কাছে নাকানি-চুবানি খেয়েছে পাকিস্তান ব্যাটসম্যানরা। এই ম্যাচেও তাই। দুই ইনিংস মিলে পাকিস্তানের ২৯টি উইকেটই নিয়েছেন প্রোটিয়া পেসাররা। অন্যটি রান আউট। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩ উইকেট নিলেন ডুয়ানে অলিভিয়ের। কাগিসো বারাদা নিলেন ৩টি। ডেল স্টেইন ২টি ও ভারনন ফিল্যান্ডার নেন ১টি।

এদিন সকালে পর পর দুই বলে বাবর আজম ও সরফরাজ আহমেদকে ফিরিয়ে দেন অলিভিয়ের। ২১ রান করা বাবরকে উইকেটের পেছনে ডি ককের হাতে ক্যাচ বানান। পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজকে শূন্য রানে করেছেন বোল্ড।

এরপর হাফ সেঞ্চুরিয়ান আসাদ শফিককে তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ক্ষীণ আশাটুকুও একরকম শেষ করে করে দেন ফিল্যান্ডার। শফিক ৭১ বলে ১১ চারে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন। ১৭৯ রানে তখন ৬ উইকেটে পরিণত পাকিস্তান।

এরপর লেজের তিন উইকেট তুলে নেন রাবাদা। ১৫ রান করা ফাহিম আশরাফকে ক্যাচ বানান মারকরামের হাতে। একই ফিল্ডারের হাতে মোহাম্মদ আমির ক্যাচ হন ব্যক্তিগত চার রানে। দশ নম্বরে নেমে হাসান আলি ২২ রান করে কট অ্যান্ড বোল্ড হন।

এর মধ্যে শাবাদ খান লড়ছিলেন একা। শেষ উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে গড়েন ৩১ রানের জুটি। কিন্তু আব্বাস ৯ রান করে রান আউটে কাটা পড়লে পরাজয় মানতে হয় পাকিস্তানকে। সঙ্গী ছাড়া শাদাব শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে যান ৪৭ রানে।

সেঞ্চুরিয়নে সিরিজের প্রথম টেস্ট ৬ উইকেটে জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। কেপটাউনে দ্বিতীয় টেস্টে জয় পেয়েছিল ৯ উইকেটে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস: ২৬২

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ১৮৫

দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংস: ৩০৩

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ২৭৩ (লক্ষ্য ৩৮১) (শফিক ৬৫, শাদাব খান ৪৭*; অলিভিয়ের ৩/৭৪, রাবাদা ৩/৭৫)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১০৭ রানে জয়ী।

সিরিজ: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩-০ তে জয়ী।

ম্যাচসেরা: কুইন্টন ডি কক

সিরিজ সেরা: ডুয়ানে অলিভিয়ের