শেরপুরে বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য টাকা আদায়ের অভিযোগ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মানুপাড়া গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা না দেওয়ায় তাদের খুঁটি দেওয়া হয়নি। বিষয়টির প্রতিবাদ করায় উল্টো ভয় দেখানো হচ্ছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য, তারা সরকারি নিয়মে টাকা আদায় করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, গ্রামের পূর্বপাড়া ছায়েদুলের বাড়ি থেকে আড়াখালী পর্যন্ত ৬০ জন গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দিতে কাজ চলছে। কাজের শুরুতেই তাদের কাছ থেকে ফিরোজ, শফিকুল, রফিক ও সালাম মাস্টার নামে স্থানীয় কয়েকজন সংযোগ পেতে টাকা দাবি করেন। গ্রাহকপ্রতি প্রথমে তারা সাত হাজার টাকা দাবি করলেও পরে ছয় হাজার এবং শেষ পর্যন্ত চার হাজার ৫০০ করে টাকা দাবি করেন। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, অনেকেই এরই মধ্যে তিন-চার হাজার করে টাকা এ চক্রটির হাতে তুলে দিয়েছেন। অনেকের কাছ থেকে আবার ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এমনকি খুঁটির জন্যও চার থেকে ছয় হাজার টাকা করে দাবি করেছে চক্রটি।

রুবেল মিয়া (২২) নামে এক গ্রাহক দেশ রূপান্তরকে জানান, স্থানীয় ফিরোজ মিয়া খুঁটি বাবদ চার হাজার ও একটি মিটার ওয়্যারিংয়ে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ১৪ হাজার টাকা তার কাছ থেকে নিয়েছেন। একই গ্রামের গ্রাহক জামাল উদ্দিন (৫০) জানান, স্থানীয় ফিরোজ মিয়া তার কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা নিয়েছেন; আরও পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছেন। এদিকে জাহাঙ্গীর নামে এক যুবক অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করলে উল্লেখিত টাকা আদায়কারীরা পুলিশ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে উল্টো তাকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়ার (৩৫) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি নিজেকে ফিরোজ বলে স্বীকার করলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজেকে নোয়াখালীর আশিকুর রহমান খোকন বলে পরিচয় দেন। আরেকজন টাকা আদায়কারী রফিক মিয়ার (৩৬) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলাকায় অনেকেই চেষ্টা করেছে কিন্তু বিদ্যুৎ আনতে পারেনি। তাই আমি একটু চেষ্টা করেছিলাম।’ জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও নিজ হাতে কোনো টাকা আদায় করেননি বলে দাবি তার। অপর অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নিয়মে টাকা আদায় করছি।’

এ ব্যাপারে শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মাসরুর হক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিদ্যুতের সংযোগ পেতে বর্তমানে ৫১৫ টাকা খরচ হয়। আর ওয়্যারিংয়ের বিষয়টি গ্রাহকদের নিজস্ব ব্যাপার। কেউ অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকলে থানা পুলিশকে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।