বলে সেরা মাশরাফী দলে সেরা ঢাকা

ঢাকা ছেড়ে বিপিএল যাচ্ছে সিলেটে। আজ থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্ব। ১৯ জানুয়ারি এই পর্ব শেষে বিপিএল আবার ঢাকায় ফিরবে। তার আগে প্রথম পর্বের পয়েন্ট টেবিল আর ব্যাটিং-বোলিংয়ের হিসাবে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

ঢাকার প্রথম পর্বে ৫টি ম্যাচ খেলেছে রংপুর রাইডার্স। টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের শুরুটা এবারও ভালো হয়নি। তিন ম্যাচে হেরেছে তারা। প্রথম ম্যাচে হারার পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। রাইলি রুশোর অপরাজিত ৭৬ রানের অনবদ্য ইনিংসের কারণে সেই ম্যাচে ৮ রানের নাটকীয় জয় পেয়েছিল রংপুর রাইডার্স। এরপরের ম্যাচেও সহজে জিতে মাঠ ছাড়ে তারা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৯ উইকেটে হারানোর পরেই অবশ্য ছন্দপতন। পরপর দুই ম্যাচ হেরে সিলেট পর্বে খেলতে গেছে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। পাঁচ ম্যাচের দুটিতে জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে তারা।

পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে আছে ঢাকা ডাইনামাইটস। একটা ম্যাচও হারেনি তারা। ৪ ম্যাচ জেতা ঢাকার পয়েন্ট ৮। আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যান হজরতউল্লাহ জাজাই একাই জিতিয়েছেন দুটি ম্যাচ। ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ভালো বল করলেও ব্যাট হাতে এখনো বড় রান পাননি। এটা অবশ্য ঢাকার জন্য ইতিবাচক ব্যাপার হিসেবেও দেখা যেতে পারে। কারণ সাকিব যখন ব্যাটিং ভালো করবেন তখন আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে ঢাকা ডাইনামাইটস।

প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে এখন চিটাগং ভাইকিন্স। গত রবিবার অসাধারণ ব্যাটিং করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মুশফিকুর রহিম। বিপিএল শুরুতে তিনি বলেছিলেন যত সময় যাবে তত ভালো করবে বাংলাদেশিরা। ঢাকা পর্বের শেষেই তার কথার প্রমাণ মিলছে। বিপিএলের চলতি আসরে সেরা দশ বোলারের ৯ জনই এখন বাংলাদেশি। ব্যাটসম্যানদের তালিকায় যদিও প্রতিনিধিত্ব কম। দশ জনের মধ্যে চারজন বাংলাদেশের। ৪ ম্যাচে ১৩৯ রান করে তালিকার চতুর্থ স্থানে আছেন মুশফিক নিজেই। দেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিনিই সেরা। চলতি বিপিএলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রান করেছেন রংপুরের রাইলি রুশো। ৫ ম্যাচে তার রান ২৩০। দল হিসাবে রংপুর খুব ভালো করতে না পারলেও বল হাতে অধিনায়ক মাশরাফী কিন্তু দারুণ ফর্মে। ১০ উইকেট নিয়ে বোলারদের তালিকার শীর্ষে আছেন তিনি। রংপুরের শফিউল ৯ উইকেট নিয়ে আছেন তৃতীয় স্থানে। রবি ফ্রাইলিনকের উইকেট সংখ্যাও ৯। তবে বোলিং গড়ে শফিউলের চেয়ে এগিয়ে তিনি। ঢাকা পর্ব শেষে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদও ৭টি করে উইকেট পেয়েছেন। ব্যাটসম্যানদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পুরান। ৩ ম্যাচে ১৬৫ রান করেছেন তিনি।

দলগুলোর মধ্যে ঢাকা পর্বে খুলনা টাইটানস কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। চার ম্যাচের চারটিতেই হেরে পয়েন্ট টেবিলে সবার শেষে আছে দলটি। ৩ ম্যাচ খেলে একটি জয় পাওয়া সিলেট আছে খুলনার ওপরে। এবার ঘরের মাঠে স্থানীয় সমর্থনে তারা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? আজ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেই বোঝা যাবে তা।