নির্বাচন বাতিলের সুযোগ নেই : ইসি

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে উপজেলা নির্বাচনের এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি শূন্য হওয়ার পরও আইনি জটিলতার কারণে সেখানে নির্বাচনের ব্যাপারে ইসি সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সংসদ সচিবালয় থেকে এ ব্যাপারে ইসিকে অবহিত করলে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ইসির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আবার নির্বাচন দেওয়ার দাবিও নাকচ করা হয়।

বৈঠক সম্পর্কে ইসির মিডিয়া সেন্টারে সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের আরও জানান, নির্বাচন নিয়ে যদি কেউ সংক্ষুব্ধ হয়, তাহলে তারা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গিয়ে মামলা করতে পারে। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৫০টি আসন নির্ধারণ করা আছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা আজই (সোমবার) চিঠি দিয়ে জানতে চাইব, নারী আসনের নির্বাচনের জন্য অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা জোট করবে কি না। চিঠিতে ইসি নির্দেশনা দিয়েছে, তারা কীভাবে নির্বাচন করবে তা ৩০ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা হবে।’

একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আবার নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে গত ৩ জানুয়ারি কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দেয় বিএনপিপ্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ‘ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ সত্য নয়’ মর্মে ৬ জানুয়ারি আরেকটি স্মারকলিপি দেয় বিজয়ী দল আওয়ামী লীগ। ইসি সচিব জানান, কমিশন এগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করেছে। তারা যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় সেগুলো আর এখন করার সুযোগ নেই।