রামগঞ্জে আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৮

জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দল্টা বাজারে চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৮ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- ডাক্তার হুমায়ুন কবীর, যুবলীগ নেতা আরাফাত হোসেন রনি, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক জাকির হোসেন পাটওয়ারী, দল্টা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজল পাটওয়ারী, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা হালিম মেম্বার, ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি কবির হোসেন সুমন ও তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ বাবু।

উভয় পক্ষের আহতদের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দল্টা সরকারি হাসপাতালের ইনচার্জ ও উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ডাক্তার হুমায়ুন কবীর জানান, তার ছোট ভাই আওয়ামী লীগ নেতা জাকির পাটওয়ারী দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় ট্রলি ও মাটি কাটার ব্যবসা চালিয়ে আসছে। কিন্তু শুক্রবার সকালে হঠাৎ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহীদ হাসান, সহ-সভাপতি কবির হোসেন সুমন ও ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল হালিমের নেতৃত্বে ট্রলি চলাচল বন্ধ করে দিয়ে চাঁদা দাবি করেন। তাদেরকে প্রতি মাসে ট্রলি প্রতি ৫ হাজার ও পিকআপভ্যান প্রতি ১০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য বলে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি আমরা দলের সিনিয়র নেতাদের জানালে তারা কৌশলে বাজারের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যায় সমাধানের কথা বলে আমার দোকানে বসে হঠাৎ বাজারের বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এ সময় তাদের হামলায় আমিসহ যুবলীগ নেতা আরাফাত হোসেন রনি, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক জাকির হোসেন পাটওয়ারী, দল্টা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজল পাটওয়ারী মারাত্মক আহত হয়।

তবে চাঁদা দাবির বিষয় অস্বীকার করে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহীদ হাসান বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ট্রলি চলাচলের কারণে রাস্তা নষ্ট হওয়ায় ট্রলি মালিককে ট্রলি বন্ধ রাখতে বলা হয়। স্থানীয় লোকজন ট্রলি চলাচলের কারণে আওয়ামী লীগ নেতাদের গালাগাল করায় আমরা বার বার জাকির পাটওয়ারীকে সতর্ক করে দিলে তিনি আমাদের উল্টো দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। পরে আজ দুপুরে আমি দল্টাবাজার গেলে ডাক্তার হুমায়ুনের লোকজন প্রাইভেটকার দিয়ে আমার মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে আমি আহত হই।

এ ঘটনার জের ধরে সোমবার রাতে আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য লোকদের উপস্থিতিতে দল্টা বাজারে বৈঠকে বসলে ডাক্তার হুমায়ুনসহ ১৫-২০জন লোক আমাদের উপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উপর হামলা করে।

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জানান, চাঁদা দাবির ঘটনা ভিত্তিহীন। মূলত ট্রলি চলাচলে রাস্তা নষ্ট হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় যুবলীগ নেতা জাহীদ হাসান, মেম্বার আবদুল হালিম, যুবলীগ নেতা কবির হোসেন সুমন ও তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ বাবুর উপর হামলা করা হয়।

রামগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ফজলুর রহমান জানান, সালিস বৈঠকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।