ছুটির দিনে জমজমাট বাণিজ্যমেলা

ছুটির দিনে অবসরে মেট্রোরেলের আদলে তৈরি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করছে নগরবাসী। ভেতরে নারীদের অলংকার, প্লাস্টিকের পণ্য, অ্যালুমিনিয়ামের গৃহস্থালি, ইমিটেশনের গহনা, কসমেটিকসের হরেক রকম স্টলের পসরা। সেগুলো কিনতে স্টলে স্টলে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। বড় বড় প্যাভিলিয়নে চোখ ধাঁধানো আয়োজন; মুগ্ধ হয়ে দেখছেন অনেকেই। কেউ আবার সেলফি নিচ্ছেন নিজেরসহ পাশের মানুষটিরও। ৯ দিন ধরে মেলা চললেও গতকাল দ্বিতীয় শুক্রবার প্রাণ পেয়েছে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। এদিন মেলা ঘুরে দেখা যায়, কাঠ ও প্লাইউডের আসবাব ও ইলেকট্রনিক পণ্যের স্টলে ক্রেতাদের ভিড়। অনেকে আবার ব্র্যান্ডের সব গাড়ি দেখছেন। তবে বেচাকেনার চাপ বেশি শীতের পোশাক আর নারীদের গহনার স্টলগুলোতে। শুরু থেকেই মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ায় ক্রেতারাও আকৃষ্ট হচ্ছেন বেশি। লোভনীয় খাবার আর হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা।

গতকাল সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করলেও দুপুরের পর থেকে ভিড় বাড়ে। বিকেলে মেলার মাঠ পুরোপুরি ভরে ওঠে। দুপুরের মধ্যেই গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত ১ ও ২ নম্বর স্থান পূর্ণ হয়ে যায়। তখন থেকেই মাইকে অনুরোধ আসতে থাকে গাড়ি ৩ নন্বর পার্কিংস্থলে রাখার জন্য। রাস্তার দুই পাশ দখল করে গাড়িগুলো। ফলে যাতায়াত করতে লোকজনকে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। আবার মেলায় হকারদের আনাগোনা বেশি থাকায় বিব্রত হয়েছেন অনেক দর্শনার্থী।

বিকেলে ফার্মগেট, কলেজ গেট ও আগারগাঁও মোড় থেকে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন ধরে হাঁটতে হয়েছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল সব স্টল-প্যাভিলিয়নের ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। মেলায় ওয়ালটন প্যাভিলিয়নের নাজমুল হক জানান, অন্য সব দিনের চেয়ে দর্শনার্থীদের সাড়া ভালো। ক্রেতা সংখ্যাও বেড়েছে।

স্টলে রেফ্রিজারেটর কিনতে এসেছেন মিরপুরের বাসিন্দা রোকসানা আলমীরা। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, মেলায় শোরুম থেকে একটু কম দামে রেফ্রিজারেটর কিনতে পাওয়া যায় কি না দেখতে এসেছি। কমে পেলে কিনে ফেলব।

ঘরের সবচেয়ে দামি দামি জিনিসের পাশাপাশি খুঁটিনাটি সব কিছু মনোযোগ দিয়ে দেখছেন গৃহিণীরা। আবার গহনার স্টলগুলোতে গিয়ে অনেকে কিনছেন পছন্দসই নাকফুল, কানের দুল।

ফার্মগেইট থেকে আসা শিক্ষার্থী সুফিনা সাহানা বলেন, ‘এখানে অনেক শোরুম। আবার মেলা উপলক্ষে ছাড়ও দেওয়া হয়। এটার জন্যই এসেছি। অনেক ধরনের ডিজাইনের গহনাও দেখছি। দামও কম, আবার নতুন ডিজাইনেও আসছে নতুনত্ব। বান্ধবীদের নিয়ে একটু বিনোদন ও কেনাকাটা একসঙ্গে সেরে ফেলছি।’

মেলায় আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, বেড শিট, হাঁড়ি-পাতিলসহ প্রায় সব পণ্যেরই রয়েছে নতুন ডিজাইন ও মডেল। সব কিছু মিলিয়ে মেলায় কেনাবেচা ভালো হবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।

আলীবাবা ডোরের বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছরই নতুন কিছু পণ্য নিয়ে আমরা মেলায় আসি। নতুন পুরনো পণ্য নিয়ে এবারও মেলায় এসেছি। ক্রেতাদের সাড়াও মিলছে ভালোই। আশা করছি, ভালো বেচাকেনা হবে এবার।’

মেলায় শিশুদেরও বিনোদনের কমতি ছিল না। মেলার মধ্যে শিশু পার্কে নাগরদোলাসহ বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো রয়েছে বঙ্গবন্ধু পার্ক ও সুন্দরবনের আদলে পার্ক। পার্কে নাগরদোলায় উঠেছে ছোট শিশু মাহিতা। মাহিতা বলে, ‘আব্বুর সঙ্গে মেলায় বেড়াতে এসেছি। অনেক খেলনা কিনেছি। খুব ভালো লাগছে আমার।’

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের রাস্তা থেকে বাণিজ্যমেলার মূল ফটকের দূরত্ব হাঁটার রাস্তা ধরে মাত্র পাঁচ মিনিটের। যানজট ও ভিড়ের কারণে মেলায় প্রবেশ করতে সময় লাগছে আধা ঘণ্টারও বেশি।

কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ আজহারুল জানান, শুক্রবার হওয়ায় সকাল থেকেই দর্শকের ভিড় বেশি। দুপুরের পর তা প্রকট আকার ধারণ করে। এছাড়া মিরপুর সড়কে মেট্রোরেলের কাজ চলার কারণে রাস্তা সংকুচিত করা হয়েছে। এ কারণে যানজট রাজধানীর অনেকটা এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে।

মেলা কমিটির সদস্য সচিব আবদুর রউফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেলায় জনসমাগম ভালো। অনলাইনে টিকিট ১২০০ ক্রস করেছে। সেদিক থেকে বলতে গেলে মেলা বেশ জমে উঠেছে। তবে মিরপুর সড়কে মেট্রোরেলের কাজ চলায় ভোগান্তি এড়ানো যাচ্ছে না। 

এবারের মেলায় মোট স্টলের সংখ্যা ৬০৫টি। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ১১০টি, মিনি-প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য স্টল ৪১২টি। মেলার গেট ও বিভিন্ন স্টল প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। মেলার টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ২৫টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার পর্দা নামবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।