রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের সমাগম। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছেন ক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, দর্শনার্থী বাড়লেও সে অনুপাতে এখনো জমেনি বেচাকেনা। কেনার চেয়ে দেখার লোকই বেশি। অন্যবারের মতো মেলার শেষভাগে পুরোদমে বেচাকেনার আশা করছেন তারা। ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী মেলার গতকাল শনিবার ছিল ১১তম দিন।
গতকাল সকাল থেকে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে দল বেঁধে মেলায় আসছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের রাস্তাগুলোতে সকালের দিকে জনসমাগম কিছুটা কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলায় ঢোকার রাস্তায়ও ছিল দীর্ঘ লাইন। মেলায় ব্র্যাক ব্যাংকের মোবাইল সেবা বিকাশের মাধ্যমে ৫০ ভাগ ছাড়ে টিকিট কেনা যাচ্ছে। ফলে প্রধান ফটকের সামনে বিকাশের ক্যাম্পে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ লাইন ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের ছাত্রী শান্তা খাতুন। তিনি পরিবারের সঙ্গে এসেছেন। শান্তা বলেন, ‘এই দিয়ে দুই দিন এলাম। আরও এক দুবার আসার ইচ্ছা আছে। এখনো তেমন কিছু কেনা হয়নি।’ নিউ লেডিস ফ্যাশন স্টলের বিক্রেতা শাওন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিদিনই প্রচুর ক্রেতা আসছেন। কেনাবেচাও মোটামুটি ভালো হচ্ছে। তবে ক্রেতা অনুপাতে কিছুটা কম। মেলার প্রথম দিকে বেশিরভাগ ক্রেতা দেখতে আসেন। শেষের দিকে বিক্রি বেশি হয়।
প্রধান ফটকের কাছে খেলনা গাড়ি, ট্রেন, বিল্ডিং, পিস্তলের পাশাপাশি রান্না করার ফ্রাইপ্যান, কারি কুকার, পিঠা বানানোর ছাঁচ, পানির বোতলসহ রান্নার বিভিন্ন সামগ্রীর স্টল ‘মা ইন্টারন্যাশনাল’। ভিড় থাকলেও বিক্রেতা সুমন বলেন, মেলায় ক্রেতা উপস্থিতির তুলনায় বিক্রি কম।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মেলায় রয়েছে পাটের তৈরি বাহারি ব্যাগ, ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী ও পাটের তৈরি শাড়ির স্টল। এগুলোর চাহিদা অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ‘ময়না জুট বাজার’ নামের স্টলের মালিক সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাটের বস্তুর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো।’