বিজয় সমাবেশে ব্যারিকেড তীব্র যানজট, অসহনীয় ভোগান্তি

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যারিকেড দেওয়ায় তীব্র যানজট দেখা গেছে বিভিন্ন সড়কে। গতকাল শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিক পরিবর্তনের (ডাইভারশন) কারণে অনেক সড়কে যানবাহন চলাচলও বন্ধ ছিল। এ কারণে হেঁটে দূরের গন্তব্যে যেতে হয়েছে নগরীর অনেক বাসিন্দাকে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের উত্তর দিক বাংলামোটর মোড়, পূর্বদিকে জিপিও, পল্টন মোড়, পশ্চিমে নীলক্ষেত মোড় ও বাটা সিগন্যালের কাছে এবং দক্ষিণে চানখাঁরপুল, বকশীবাজার চৌরাস্তায় পুলিশ ব্যারিকেড দেওয়া হয়। ফলে এসব এলাকা পরিহার করে যানবাহন চলতে হয়। এতে অন্য সড়কগুলোতে ব্যাপক যানজট দেখা দেয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নির্দেশনার কারণে গাবতলী, মিরপুর রোড হয়ে সমাবেশে আসা ব্যক্তিরা সায়েন্সল্যাব-নিউমার্কেট হয়ে নীলক্ষেতে নেমে হেঁটে টিএসসি হয়ে বিভিন্ন গেট দিয়ে উদ্যানে প্রবেশ করেন। তাদের বাসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বর এবং নীলক্ষেত থেকে পলাশী পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ছিল। মতিঝিল, গুলিস্তান ও হাতিরঝিল এলাকায় সমাবেশে আগত ব্যক্তিদের গাড়ি পার্কিং করে রাখার কারণে এসব এলাকায় যানজট দেখা দেয়।

সমাবেশের কারণে শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত সড়ক সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য বন্ধ ছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারদিকের রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সমাবেশস্থলের পাশে বাংলামোটর মোড়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, বকশীবাজার, চানখাঁরপুল, গোলাপশাহ মাজার, জিরো পয়েন্ট, পল্টন, কাকরাইল চার্চ, অফিসার্স ক্লাব, মিন্টো রোড ক্রসিংগুলো থেকে গাড়ি  ডাইভারশন দেওয়া হয়।

কয়েকজন পথচারী জানান, মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ, বাণিজ্যমেলার কারণে যানজটে বসে থাকতে হয় রোকেয়া সরণিতে। তার ওপর আজকের এই আয়োজনের কারণে বাড়তি চাপ পড়ে।

দুপুর ১টার দিকে মগবাজারে রিকশাচালক রমিজউদ্দিন বলেন, ‘মালিবাগ থেকে রিকশা নিয়ে মগবাজার ওয়্যারলেস সিগন্যালে গিয়ে আটকে যাই। যাত্রী অর্ধেক ভাড়া দিয়ে নেমে হেঁটে চলে যান।’

ওই এলাকায় আল-আমিন নামে এক রিকশাযাত্রী বলেন, ‘এই এলাকায় এমনিতেই জ্যাম থাকে। আজকে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।’

ফার্মগেটে রোকসানা নামের এক যাত্রী বলেন, ‘কোনো বাস নাই। যেগুলো আছে, গেটলক হয়ে আসছে; উঠতে পারিনি। বাস কেন নাই, তার কোনো ঘোষণাও নাই। আমরা রাজধানীবাসী যেন এ ধরনের হয়রানিতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি।’