গজারিয়া লঞ্চঘাটের অদূরে আরও এক মৃতদেহ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জের অদূরে ষাটনল এলাকার মেঘনা নদীতে রোববার দুপুরে আরও এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বেলা ১২টার দিকে ভাসমান অবস্থায় এ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মেঘনা নদীতে পৃথক দুই মৃতদেহ উদ্ধার করা হল।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের উপ-সহাকরী পরিচালক মো. মোস্তফা মহসিন মৃতদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার মাঝ মেঘনায় ভেসে উঠলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মৃতদেহটি উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, এর আগে সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া লঞ্চঘাটের অদূরে মাঝ নদীতে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। উদ্ধার করা মৃতদেহ দুইটির পরিচয় জানা যায়নি। মৃতদেহগুলো ট্রলার ডুবির নিখোঁজ শ্রমিক কিনা-তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি মুন্সীগঞ্জে ঘটে যাওয়া নৌ-দুর্ঘটনার লাশ। দুর্ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনরা চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তারা এসে শনাক্ত করলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জে ডুবে যাওয়া ট্রলার যাত্রীদের উদ্ধারে কিছুক্ষণ পর থেকে চাঁদপুরের মেঘনা নদী অংশে অভিযান শুরু হবে। নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে।

গত ১৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে মালবাহী জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাকির দেওয়ান নামের মাটিবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ৩৪ শ্রমিকের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজদের মধ্যে ১৭ জনের বাড়ি পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে। এ ঘটনায় ৯ সদস্য বিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

উল্লেখ্য, সোমবার কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ট্রলারে মাটি নিয়ে ৩৪ জন শ্রমিক নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী যাচ্ছিল। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জের চরঝাঁপটার মেঘনা নদীতে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী কার্গো ট্রলারে ধাক্কা দিয়ে চাঁদপুরের দিকে চলে যায়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেও ট্রলারটির কেবিনের ভেতরে ঘুমন্ত ২০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ শ্রমিকদের অধিকাংশেরই বাড়ি পাবনায়।

অন্যদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ট্রলার ডুবিতে বেঁচে যাওয়া শ্রমিক শাহ আলম বাদী হয়ে ট্রলারের সারেং (মাঝি) হাবিব, ট্রলারের মালিক জাকির দেওয়ান ও তেলবাহী কার্গোর চালককে (অজ্ঞাত) আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

ট্রলার ডুবির ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোবাশেরুল ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।