কারাবন্দী বিএনপি নেতার স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় কবিরহাট থানা-পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার না করে বরং নির্যাতিতার স্বজনদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী (৩২) রোববার এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আমার নির্দোষ আত্মীয়দের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার পরদিন শনিবার মূল আসামি জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্য আসামিদের না ধরে পুলিশ ভুক্তভোগীর নিকট আত্মীয়দের গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- ওই নারীর দেবর আবদুর রব হোসেন মান্নান, ননদের জামাই সেলিম ও তার মামা হারুন। তিনি তিনজনের মুক্তি দাবি করেন।
তিনি দেশ রূপান্তরের কাছে আরও অভিযোগ করে বলেন, শনিবার মামলা করতে থানায় গিয়ে সাতজন জড়িত থাকার কথা বলার পরও পুলিশ টাইপ করা এজাহারে ৪ জনকে আসামি করে সাক্ষর আদায় করে নেয়।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসান জনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেন তাদের নাম বলায় এ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা ডাক্তার জানান, ভিকটিমের শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।
এদিকে, ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার বাম জোট ধানসিঁড়িতে মানববন্ধন করেছে। জেলা মহিলা কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সাহিদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদিকা নাদিয়া মমিন এক বিবৃতিতে ধর্ষক যে দলেরই হোক তাদের ছাড় না দেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
নোয়াখালীর কবিরহাটে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক কারাবন্দী বিএনপি নেতার স্ত্রী। কবিরহাট উপজেলার ৩নং ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের এ ঘটনায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন নির্যাতিতা ওই নারী (৩২)। এ ঘটনায় কবিরহাট থানায় মামলা হয়।
হাসপাতালে কারাবন্দী বিএনপি নেতার ওই স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে জানান, স্বামীর অনুপস্থিতিতে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টায় একই এলাকার যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনসহ ৪/৫ জন ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে তার মুখ বেঁধে ফেলে এবং সন্তানদেরও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। পরে কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে যায়। রাত ৩টার দিকে তার সন্তানদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে উদ্ধার করে এবং শনিবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।