ইসরায়েল-সিরিয়ার ‘অঘোষিত’ মিসাইল যুদ্ধ অব্যাহত

দামাস্কাসে ইরানি সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে সিরিয়ায় ‘অঘোষিত যুদ্ধ’ চলছে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েল ও সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর মধ্যে উপর্যপুরি মিসাইল হামলা চলছে।

রবিবার রাত থেকে দামাস্কাসে টানা হামলা চালানো হচ্ছে বলে এক বিবৃতিতে ইসরায়েল জানিয়েছে।

বিবিসি জানায়, ইরান রেভ্যুলেশনারি গার্ডের বিশেষ বাহিনী কুদস ফোর্স এবং সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি লক্ষ্য করে সারারাত এ হামলা চালানো হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ (আইডিএফ)। 

আলজাজিরা জানায়, ইসরাইলি মিসাইলের অধিকাংশই ধ্বংস করেছে সিরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ  জানায়, ৩০ এরও বেশি ইসরায়েলি ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করেছে সিরিয়া।

তবে পর্যবেক্ষক সূত্রে জানা যায়,  সিরিয়া বাহিনীর অন্তত ১১টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ইসরায়েল।

আইডিএফ জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় সিরিয়া থেকে দখলকৃত গোলান হাইটসে রকেট ছুঁড়ে মারে কুদস  ফোর্স। এ হামলার মধ্যে দিয়ে আবারও প্রমাণ হলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে সিরিয়ায় অবস্থান করছে ইরান।

রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ সোমবার জানায়, দক্ষিণ দামাস্কাসের বিমানবন্দরে ইসরায়েলি হামলায় চার সিরিয়ান সৈন্য নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া সিরিয়া যুদ্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সহায়তা দিচ্ছে ইরান। তবে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিবেশী রাষ্ট্রে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সামরিক উপস্থিতিকে হুমকি স্বরূপ দেখে। সিরিয়ায় কয়েক হাজার ইরানি সামরিক সদস্য অবস্থান করছে। 

১৩ জানুয়ারি দামাস্কাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের সামরিক স্থাপনার উপরে ৩৬ ঘণ্টাজুড়ে হামলা চালায় ইসরায়েল। দেশটির প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, মারণাস্ত্রের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো এসব স্থাপনা।’

এর আগেও সিরিয়ায় ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় দেশটি। ইসরায়েলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন, গত দুই বছরে ইরান ঘাঁটিতে দুইশোরও বেশি হামলা চালিয়েছেন তারা।