কবিরহাটে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’

সেই নারীর ৩ আত্মীয়কে রিমান্ডে চায় পুলিশ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ নারীর তিন আত্মীয়কে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) টমাস বড়ুয়া তিনজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে পুলিশের পাহারায় চিকিৎসাধীন নারীর অভিযোগ, পুলিশ ঘটনার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার না করে বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে তার দেবর মান্নান, ননদ ও মামা হারুনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দোষ স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ওই সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সামনেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্থানীয় বিএনপি নেতার স্ত্রী বলেন, তার নির্যাতনের কথা ও পত্রিকা আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ‘দয়া করে’ তার স্বামীকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু এখন থানা পুলিশের সামনেই প্রভাবশালীরা হুমকি দিয়ে বলছে, ধর্ষণের মামলা চালালে তার স্বামীকে আবার মামলায় জড়ানো হবে। আর তিন আত্মীয়কে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা করা হবে।

এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ওসি মির্জা হাসান জানান, ঘটনার মূল হোতা জাকের হোসেন ওরফে জহিরের থানায় ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির সূত্র ধরেই ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়ায় বিচারিক হাকিমের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওই নারীর চিকিৎসা নিয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খলিল উল্লাহ জানান, ধর্ষণ নিশ্চিত হওয়ার পরীক্ষার প্রতিবেদন গতকালও পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, ওই নারীর চিকিৎসার কোনো কমতি হচ্ছে না।