ফের ভরাট হচ্ছে ২০০ বছরের পুরনো সরকারি পুকুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় আবারও ভরাট হচ্ছে ২০০ বছরের পুরনো সরকারি পুকুর। রূপসদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মহিউদ্দিন ওরফে বাদলের নেতৃত্বে কয়েকজন উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের এ পুকুরটি ভরাট করছেন। এর আগেও ওই পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা করা হলে প্রশাসনের বাধায় সেবার পিছু হটেন তারা।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হোগলাকান্দি মৌজার ৯৬ শতকের খাস পুকুরটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। এর আগে মাছ চাষে পুকুরটি সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হলেও গত দুই বছর ইজারা না দেওয়ায় ২০১৭ সালের মে মাসে পুকুরটি বালু ফেলে ভরাটের চেষ্টা করেন ইউপি সদস্য বাদলের লোকজন। তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ হোসেন ভরাটকারীদের বাধা দেন এবং তাদের সময় বেঁধে দিয়ে পুকুর থেকে বালু অপসারণ করান। একই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবেশ অধিদপ্তর পুকুর ভরাটকারী ছয়জনকে অভিযুক্ত করে কারণ দর্শনার নোটিস দেয়।
রূপসদী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)  সফিকুল ইসলাম পুকুরে বালু ফেলে ভরাট করার বিষয়টি জানিয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর ও ২৭ ডিসেম্বর পৃথক দুটি প্রতিবেদন দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তিনি জানান, পুকুরটি ভরাট না করার জন্য বাধা দেওয়া হলেও ভরাটকারীরা কোনো বাধাই মানছেন না। পুকুর ভরাটে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী জহিরুল হকের খননযন্ত্র (শ্যালো ইঞ্জিনচালিত) দিয়ে ২৪ ডিসেম্বর থেকে পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। আর এক সপ্তাহ লাগবে পুরো পুকুর ভরাট করতে। পুকুর থেকে ২০০ মিটার দূরে সরকারি বিল থেকে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে তা পুকুরে ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। বালু ব্যবসায়ী হোগলাকান্দি গ্রামের জহিরুল হক বলেন, ‘আমাদের গ্রামে কোনো খেলার মাঠ নেই। তাই বাদল মেম্বারসহ গ্রামের লোকজন মিলে সরকারি পুকুরটি ভরাট করছি। তিনি জানান, গত বছরও তারা পুকুরটি ভরাট করেছিলেন। কিন্তু এসিল্যান্ডের বাধার মুখে পরে পুকুরে ফেলা বালু আবার সরিয়ে নেন।
তবে পুকুর ভরাটের অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মো. মহিউদ্দিন বাদল বলেন, ‘আমি পুকুর ভরাটের সঙ্গে জড়িত নই, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’ এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোসাব্বের হোসেন জানান, এই পুকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, প্রায় ২০০ বছরের পুরনো সরকারি এই পুকুরটি ভরাটে তিনি বাধা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাইমারি স্কুলের মাঠের জন্য এটা ভরাট করা হচ্ছে বলে শুনেছি।’ তবে কেউ যাতে এই পুকুরের জায়গা দখল করতে না পারে সেদিকে প্রশাসনের নজর থাকবে বলে জানান তিনি।