উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটের হাওয়া হবিগঞ্জের নয়টি উপজেলাতেও বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার সমর্থকরা উঠান বৈঠক করে ভোটারদের কাছে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা জানান দিচ্ছেন। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাচ্ছিরুল ইসলাম উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য গণসংযোগ শুরু করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত বিএনপি থেকে কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি।
নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুুর রশীদ তালুকদার, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টার শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলী আহম্মদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ।
লাখাই উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিউল আলম আজাদ, সাবেক চেয়ারম্যান রফিক আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল হাসেম, করাব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম ও জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহসভাপতি নোমান মোল্লার নাম শোনা যাচ্ছে।
বানিয়াচং উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির হোসেন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ, জেলা কমিটির সদস্য আবুল কাশেম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হায়দরুজ্জামান খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমদ, সাবেক সভাপতি মঞ্জুর উদ্দিন আহমেদ শাহীন, জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি মকসুদুজ্জামান খান ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেওয়ান শোয়েব রেজা।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা হাসান, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. লোকমান মিয়া, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খালেদুর রশীদ ঝলক, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক কাপ্তান সারোয়ার ভোটে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নবীগঞ্জ উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুলতান মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল, যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুল হক সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, যুবদল নেতা শেখ মোস্তাফিজুর রহমান চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছেন।
বাহুবল উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কাদির চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আমেরিকা প্রবাসী আক্তারুজ্জামান নাসির, জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি মুদ্দত আলী, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এম এ মুসা, উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা এম এ জলিল তালুকদারের নাম শোনা যাচ্ছে।
চুনারুঘাটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামীম আহমদ, আহম্মদাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সনজু চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও চুনারুঘাট সদর ইউপির চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
মাধবপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, সহসভাপতি মহিউজ্জামান হারুন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ হাবিবুল্লাহ, এহতেশামুল বার চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহান ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া আক্তার নির্বাচনী মাঠে থাকতে চান।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ মজিদ খান, দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নের জন্য প্রতিটি উপজেলা থেকে দলীয় তিনজন প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হবে। তাদের মধ্যে থেকে একজন দলীয় প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন।