বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করতে ব্যর্থ হয়ে ত্রিপুরা-কসবা সীমান্তে আটকে পড়া ৩১ রোহিঙ্গাদের গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ।
গত শুক্রবার থেকে তারা সীমান্তের ‘নো-ম্যানস ল্যান্ডে’ আশ্রয় নিয়েছিল।
বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির দাবি, এসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করতে চেয়েছিল ভারত।
আলজাজিরা জানায়, ছয়জন নারী ও ১৬ শিশুসহ ৩১ রোহিঙ্গাকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ত্রিপুরার পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
এসব রোহিঙ্গাদের ভারত থেকে তাড়ানো চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে ঢুকতে না চাওয়ায় দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।
মিয়ানমারের নিপীড়নের শিকার হয়ে বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ হাজার মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। এসব মুসলিম রোহিঙ্গাদেরকে ভারত সবসময় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে।
২০১৭ সালের আগস্টে সেনা অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয়। এদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা এখন ১০ লাখেরও বেশি। এ পরিস্থিতিতে ভারতও চাইছে সেখানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে।
আলজাজিরা জানায়, এদিকে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেওয়ার আতঙ্কে গত কয়েক সপ্তাহে ১৩ শতাধিক রোহিঙ্গা ভারত থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। সর্বশেষ এ দলটি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে গিয়ে বিজিবির বাধার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে তারা সীমান্তের ‘নো-ম্যানস ল্যান্ডে’ আশ্রয় নেয়।
তবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ দাবি করছে, এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছিল।
বিএসএফের ডিরেক্টর ইন্সপেক্টর জেনারেল ব্রিজেশ কুমার বলেন, ‘তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছিল, বিএসএফ তা প্রতিহত করে।’
তবে বিজিবির দাবি, এসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিতে চেয়েছিল বিএসএফ। তারা তা ঠেকিয়ে দিয়েছে।
এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে দুই সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার পতাকা বৈঠক হয়। এতে কোনো ধরনের সমাধান না আসায় ত্রিপুরার পুলিশ শেষপর্যন্ত রোহিঙ্গাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
ত্রিপুরার কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত এসব রোহিঙ্গাদের মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাদেরকে ১৪ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে ত্রিপুরার পুলিশ জানায়, এসব রোহিঙ্গা গত ছয় বছর ধরে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ জম্মু-কাশ্মীরে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের কাছে ইউএনএইচসিআরের শরণার্থী কাগজ থাকার কথা থাকলেও সেটা পাওয়া যায়নি।
তবে মোহাম্মদ শাহজাহান (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমরা ভারতে এসেছিলাম কাজের সন্ধানে। আমাদের কাছে সব ধরনের কাগজপত্র ছিল। কিন্তু বিজিবি সেসব কেড়ে নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের এক লোক সীমান্ত পার করে দিতে আমাদের প্রতি পরিবার থেকে প্রায় ১ হাজার রুপি করে নেয়। রাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে সাহায্য করতে ওই ব্যক্তি সীমান্তে এসেছিল। কিন্তু তার আগেই বিজিবি আমাদের আটকে দেয়।’
এদিকে সোমবার রাতেও আসামের গুয়াহাটি থেকে ৩০ জনের রোহিঙ্গার একটি দলকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। বাস থেকে গ্রেপ্তার করা এই দলে ১২ শিশু ও নয় নারী আছে বলে জানা গেছে।