বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএলে) জয়রথ ছুটছেই চিটাগং ভাইকিংসের। অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা দলটি বুধবার আসরে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে। মুশফিকর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাটে ভর করে হারিয়েছে রাজশাহী কিংসকে। যে জয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসকে দুইয়ে ঠেলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠে গেছে চিটাগং।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৫৭ রান করে রাজশাহী। জবাবে ২ বল হাতে রেখে ৪ উইকেট হারিয়েই জয় তুলে নেয় চিটাগং। মুশফিক অপরাজিত ৬৪ ও মোসাদ্দেক ৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। দুজনের অবিচ্ছেদ্য পঞ্চম উইকেট জুটিই চিটাগংকে এনে দিয়েছেন দাপুটে জয়। এই জুটির সংগ্রহ ছিল ৭১ রান।
১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি চিটাগংয়ের। দলীয় ৬ রানে ক্যামেরুন ডেলপোর্ট বিদায় নেন। আরাফাত সানির করা পঞ্চম ওভারে ১ রানের ব্যবধানে ফিরে যান ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ শাহজাদ। ইয়াসির ৩ রান করেন। শাহজাদ অবশ্য দারুণ শুরু পেয়েছিলেন। ১৭ বলে ৫ চারে ২৫ রান করেন এই আফগান।
এর পর মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে এগিয়েছে চিটাগং। নাজিবুল্লাহ জাদরানকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৪১ রান জুটি। নাজিবুল্লাহ ২৩ রান করে ফেরেন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন।
মুশফিক পেয়েছেন এবারের আসরের তৃতীয় ফিফটি। ৪৬ বলে ৬৪ রান করেন তিনি ৬ চার ও ২ ছক্কায়। মোসাদ্দেক ২৬ বলে ৪৩ রান করেন ৪ চার ও ২ ছক্কায়। রাজশাহীর পক্ষে আরাফাত সানি সর্বাধিক ৩ উইকেট নেন।
এর আগে শুরুতে বিপদে পড়লেও লরি ইভান্সের ব্যাটে ভর করে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় রাজশাহী কিংস। দলীয় ৮ রানেই দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ও মার্শাল আইয়ুব ফেরেন। একপ্রান্ত আগলে রাখেন আগের ম্যাচেই বিপিএলের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি পাওয়া ইভান্স। এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান রায়ান টেন ডেসকাটের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামলান।
ডেসকাট ২০ বলে ৪ চারে ২৮ রান করেছেন। ইভান্স চিটাগংয়ের ব্যাটসম্যানের পঞ্চম শিকার হন। ফেরার আগে খেলেছেন ৫৬ বলে ৭৪ রানের ইনিংস। ৮ চারের সঙ্গে ২ ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষ দিকে ক্রিস্তিয়ান জঙ্কার খেলেছেন অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংস। তার ২০ বলের ইনিংসে ছিল ৩ চার ও ২ ছক্কা। মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ১০ রানে।
চিটাগংয়ের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন খালেদ। ১টি করে উইকেট নেন ফ্রাইলিঙ্ক, সানজামুল ও রাহি। ম্যাচ সেরা হয়েছে মুশফিকুর রহিম।