সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী অসুস্থ হয়ে রাজধানীর মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাকে বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে বলে গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন তার স্ত্রী ফারজানা মিমি।
এদিকে রাজধানীর ইব্রাহিক কার্ডিয়াক হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাংলাদেশের সুস্থ চলচ্চিত্র আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা মুহম্মদ খসরু। গতকাল তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বারডেম হাসপাতালের কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খসরুর সহকারী হকলাল ইমন। গতকাল বিকেলে সুরকার আলাউদ্দীন আলীর সহকারী মোমিন বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আলাউদ্দীন আলী বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। ২০১৫ সালে তার ক্যানসার ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু গত মঙ্গলবার সকালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে অসুস্থতা অনুভব করতে থাকেন। তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডাক্তার আশীষ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।’
ডা. আশীষ চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংগীত ব্যক্তিত্ব আলাউদ্দীন আলী আমাদের হাসপাতালে আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন আছেন। তার ব্লাড প্রেশার কিছুটা কমে গিয়েছে। এর আগে তিনি ক্যানসারেও আক্রান্ত ছিলেন, যার জন্য তাকে আইসিইউ’তে রাখা হয়েছে। এখন উনাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা না গেলে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। তবে এখনো তিনি শঙ্কামুক্ত নন।’
আলাউদ্দীন আলী একাধারে সংগীত পরিচালক, সুরকার, বেহালাবাদক ও গীতিকার। গুণী এই মানুষটির জন্ম ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের টঙ্গিবাড়ি থানার বাঁশবাড়ি গ্রামে। তার বাবা জাদব আলী। মায়ের নাম জোহরা খাতুন। দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দীন আলী। তিন ভাই, দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হতে থাকেন এই গুণী শিল্পী। সংগীতে প্রথম হাতেখড়ি ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে। পরে ১৯৬৮ সালে যন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। শুরুটা শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে, পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গেই কাজ করেন দীর্ঘদিন।
মুহম্মদ খসরুর সহকারী হকলাল ইমন দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা সমস্যায় অনেক দিন ধরেই ভুগছিলেন মুহম্মদ খসরু। গত সোমবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কেরানীগঞ্জের রোহিতপুরের বাড়ি থেকে ঢাকায় আনা হয়। ভর্তি করা হয় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিসিইউ’তে ভর্তি করেন। বুধবার তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।’
বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পত্রিকা ‘ধ্রুপদী’ ও ‘চলচ্চিত্র’ এর সম্পাদক মুহম্মদ খসরু। এছাড়া বেশ কয়েকটি গ্রন্থের প্রণেতাও তিনি। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা রাজেন তরফদারের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘পালঙ্ক’-এ সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ঋত্বিক ঘটকের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন ৭০-এর দশকে, যা ধ্রুপদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে এই সাক্ষাৎকারটি উপমহাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় পুনর্মুদ্রণ হয়েছে। মুহম্মদ খসরুর বয়স হয়েছে ৭৩ বছর।