কবিরহাটে দলবেঁধে ধর্ষণ: ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর কবিরহাটের নবগ্রামে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার জামাল উদ্দিন (২৬) একই গ্রামের।

তিনি ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ছাত্রলীগের এক সহ-সম্পাদক জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সীমান্তবর্তী গুনবতির দশবাহা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জাকির হোসেন জানান।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনা তদন্তে নাম আসায় একই এলাকার বাসিন্দা জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাকে শুক্রবার আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

এদিকে কবিরহাট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনার আলামত নষ্টের অভিযোগ করেছেন ধর্ষিত নারী ও তার আইনজীবী। হাসপাতালে ওই নারী সাংবাদিকদের বলেন, ১৮ জানুয়ারি রাতে ধর্ষণের ঘটনার পর পুলিশ তাকে ১৯ জানুয়ারি থানায় ডেকে আনে।

তিনি আরো জানান, থানায় আনার পর থেকে নানা ধরনের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করে এবং তাকে ধমক দিয়ে কথা বলে। দুই দিন পর ঘটনার আলামত হিসেবে পুলিশ তার কাছ থেকে পরনের কাপড়চোপড় দিতে বললে তিনি তা পুলিশকে বুঝিয়ে দেন।

এ বিষয়ে কবিরহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া বলেন, ১৯ জানুয়ারি ধর্ষণের মামলার তদন্তের ভার পেয়ে তিনি ‘ভিকটিমের’ কাপড় সংগ্রহ করেন। ২০ জানুয়ারি সেগুলোর রাসায়নিক ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। অনুমতি নিয়ে ২১ জানুয়ারি একজন পুলিশের মাধ্যমে ঢাকায় সিআইডির কাছে পাঠান। বাহক পুলিশ ২২ জানুয়ারি ঢাকায় সিআইডিকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

ঘটনার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে কবিরহাট থানা পুলিশের গাফিলতির কারণে ২১ জানুয়ারি জেলা পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিলেও কেন ওই দিনই আলামাত ঢাকায় পাঠানো হলো সে বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি টমাস।

এ বিষয়ে ওই নারীর আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, ‘আলামত বদল করে বা নষ্ট করে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ভিন্ন বা আলামত নষ্ট করে কাপড়চোপড় সিআইডিতে প্রেরণ করা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নির্যাতিতার স্বামী আবুল হোসেন ব্যারিস্টার মওদুদের ধানের শীষের সমর্থক থাকায় তাকে কারাগারে পাঠিয়ে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। মওদুদ শুক্রবার সকাল ১১টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নির্যাতিতাকে দেখতে যাবেন।