প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মধ্যেই নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন বিরোধী দলের নেতা হুয়ান গুয়াইদো। তাকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ। প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা বামপন্থি নেতা মাদুরো। এর ফলে দেশটির বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হলো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, গুয়াইদোর ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদের নেতার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাকেও স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের পর একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে কানাডা।
ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার ডানঘেঁষা সরকারগুলোও একই পথে হেঁটেছে। তবে দেশটির তেলশিল্পে বিপুল বিনিয়োগ করা ও সেনাদের সহায়তা দেওয়া রাশিয়া বিরোধীদলীয় নেতার প্রেসিডেন্ট ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের খবরে বলা হয়, রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন মাদুরোর উৎখাতচেষ্টাকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন। ফ্র্যাঞ্জ ক্লিনজেভিচ নামের আরেক আইনপ্রণেতা বলেন, মাদুরোকে উৎখাত করা হলে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করতে দিতে পারে মস্কো।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এক বক্তব্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, মাদুরোর বাইরে অন্য কোনো নেতাকে স্বীকৃতি ‘নৈরাজ্য’ তৈরি করতে পারে। প্যারিসে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করছে ফ্রান্স।
এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পূর্বাঞ্চলে গুয়াইদোর এক সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। এতে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা মাদুরোর বিরুদ্ধে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার অভিযোগ করেন। ওই সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে তেলসমৃদ্ধ দেশটির ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতিজনিত অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধের আশ্বাস দেন।
উচ্ছ্বসিত জনতার উদ্দেশে বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের প্রধান, ৩৫ বছর বয়সী গুয়াইদো বলেন, ‘ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার অবসান নিশ্চিত করতে আমি প্রেসিডেন্টের সব ক্ষমতা গ্রহণের শপথ নিচ্ছি।’
গুয়াইদোর এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলায় বিরোধীদের সমান্তরাল সরকার চালুর আশঙ্কা তৈরি হলো। এ সরকার একদিকে পশ্চিমা প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণহীন।
বিরোধী নেতার পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ওয়াশিংটনের সহায়তায় অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগ করেন। সমাজতান্ত্রিক দলের নেতাবেষ্টিত মাদুরো বলেন, ‘যথেষ্ট হস্তক্ষেপ হয়েছে। আমাদের মর্যাদা আছে। এখানে এমন জনগণ আছে, যারা এই ভূমিকে রক্ষা করতে চায়।’
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা সরকারে যেকোনো পরিবর্তন সরকারের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্যে পরিবর্তন আনতে পারে। যদিও সড়কে দুই দফা বিক্ষোভের পর এখন পর্যন্ত সেনারা মাদুরোর পক্ষেই আছে।