যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউন বা সরকারের অচলাবস্থা কাটছে না সহজে। বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের আনা দুইটি বিল সিনেটে পাশ না হলে এ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হল। তবে সংকট মোকাবেলায় অস্থায়ী তহবিল গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসেছেন রাজনৈতিক নেতারা।
আল জাজিরা জানায়, ৩৪ দিনে পা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শাটডাউনের রেকর্ড সৃষ্টি হল এবার। ফলে সরকারি কার্যক্রম সচল রাখতে তিন সপ্তাহের জন্য অস্থায়ী তহবিল ছাড়ের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন দুই পক্ষের নেতারাই।
মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার বাজেট অনুমোদনে ব্যর্থ হয়ে গত ২১ ডিসেম্বর সরকারি ব্যয় বরাদ্দ বিলে সই করতে অস্বীকৃতি জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বন্ধ হয়ে যায় অধিকাংশ সরকারি কার্যক্রম।
১৫টি সরকারি বিভাগের নয়টিই বন্ধ রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিবহন ও বিচার বিভাগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। নাগরিকরা এসব মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোনো সেবা গ্রহণ করতে পারছেন না। প্রায় ৮ লাখ আমেরিকানকে পারিশ্রমিক ছাড়া কাজ করে যেতে হচ্ছে।
সংকট নিরসনে একাধিকবার সমঝোতা বৈঠক হলেও ব্যর্থ হয়েছেন দেশটির রাজনৈতিকরা। ট্রাম্পও অনড় থাকেন তার প্রস্তাবিত মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের বাজেট অনুমোদন পেতে।
বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের জন্য বাজেট অনুমোদনে রিপাবলিকানদের আনা বিল ৫০-৪৭ ভোটে পাশ হতে ব্যর্থ হয়। একইভাবে শাটডাউন নিরসনের জন্য ডেমোক্রেটদের আনা বিলও পাশ হতে ব্যর্থ হয়, ৫২-৪৪ ভোটে।
১০০ সদস্যের সভাকক্ষে বিল পাশ হতে প্রয়োজন ছিল ৬০ ভোটের, যা কোনো পক্ষই অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। এতে ৮ ফেব্রুয়ারির আগে অচলাবস্থা নিরসন হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
এদিকে সংকট নিরসন না হওয়ায় অন্তত সীমিত আকারে সরকারি কার্যক্রম সচল রাখতে অস্থায়ী তহবিল গঠনের জন্য দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা আলোচনা বসেছেন। সিনেটে প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল এবং শীর্ষ ডেমোক্রেট নেতা চউক শুমার একান্ত বৈঠকে বসেন।
অস্থায়ী তহবিল গঠনের প্রস্তাবে ট্রাম্প রাজি হবেন কীনা এমন প্রশ্নের উত্তরে শুমার বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে তার প্রস্তাবে অটল।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্সের মাধ্যমে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি যুক্তিসঙ্গত কোন প্রস্তাব নিয়ে আসে তাহলে আমি সমর্থন করব। এ দেশে সীমান্ত দেয়াল হতেই হবে।’
একই বিবৃতিতে ট্রাম্প আবার বলেন, ‘তিন সপ্তাহের জন্য এ অস্থায়ী তহবিলের তিনি অনুমোদন দিবেন যদি সীমান্ত দেয়ালের জন্য বরাদ্দের বড় অংশ ছাড় দেওয়া হয়।’
ট্রাম্পের ঘনিষ্ট রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও অস্থায়ী তহবিলের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার মতে, অস্থায়ী তহবিল ছাড়ের মাধ্যমে অন্তত তিন সপ্তাহের জন্য সরকারি কার্যক্রম চালু হলে শাটডাউন নিরসন সেইসঙ্গে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে অর্থ অনুমোদনে বড় ধরণের অগ্রগতি ঘটবে।