১৮০০ সালেও মহাসাগরগুলোর বুকে তিমি শিকারি জাহাজগুলো ঘুরে বেড়াত। সে সময় তিমির তেল দিয়ে তৈরি হতো মোমবাতি। তেলের ব্যবসায়ীদের চাহিদার কারণেই সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে তিমি শিকার করা হতো।
পাল তোলা ইঞ্জিনবিহীন জাহাজে হাতে নিক্ষিপ্ত হার্পুন দিয়েই বিশাল তিমি শিকার করে ফেলত জেলেরা। এই তিমি শিকারের অভিযান ছিল রোমান্সকর, উত্তেজনাপূর্ণ আর বিপজ্জনক। সাগরে একটি তিমি কিংবা এর কোনো দলকে খুঁজে পেতে অপেক্ষা করতে হতো দিনের পর দিন। মূলত তিমি মাছের খাবার থাকে যেসব এলাকায় সেখানেই থাকে এই বিশাল প্রাণীদের বিচরণ। তিমি মাছের সন্ধান পেলে এর কাছাকাছি গিয়ে জাহাজের গতি কমানো হতো। এরপর জাহাজ থেকে নামানো হতো ছোট কয়েকটি নৌকা। প্রতিটি নৌকায় থাকত সাধারণত দুজন। এদের একজন প্রধান তিমি শিকারি, অন্যজন হার্পুন নিক্ষেপকারী। এছাড়াও কয়েকজন থাকত নৌকা এগিয়ে নেওয়ার জন্য। তীব্র চিৎকার চেঁচামেচি করে হার্পুন নিক্ষেপকারীরা ছুটন্ত তিমিটিকে ঘাবড়ে দেওয়ার চেষ্টা করত। এরপর সুবিধামতো সময়ে ছুড়ে মারা হতো হার্পুন। অনেক সময় হার্পুনবিদ্ধ অবস্থায় তিমি পালিয়ে যেত। আর সঠিকভাবে কয়েকটি হার্পুন নিক্ষেপ করতে পারলে মারা যেত তিমি মাছ। এরপর শুরু হতো মৃত তিমিকে বাঁধার কাজ। বাঁধা শেষ হলে তিমিকে টেনে জাহাজের কাছে নিয়ে আসা হতো এবং মাথা আলাদা করে শরীরের অংশটুকু ফেলে দেয়া হতো। কারণ তিমির মাথাতেই থাকে তেল।
তেলের জন্য সাধারণত স্পার্ম তিমি শিকার করা হতো। প্রাপ্ত বয়স্ক স্পার্ম তিমি অথবা নীল তিমির মাথা বিশ ফুটের বেশি বড় হয়। আর এই বিশাল আকৃতির মাথার ভেতরেই থাকে চমৎকার তেল। এরপর মাথায় একটা গর্ত করে বালতি দিয়ে তোলা হয় তিমির তেল। কাঁচা দুধের মতো দেখতে এই পদার্থের নাম স্পার্মাসেটি যেটিকে আমরা তিমির তেল বলে জানি। ছোট ছোট বালতিতে করে স্পার্মাসেটি তুলে ঢালা হয় বড় একটি বালতিতে। এরপর এই বালতি জাহাজের ডেকে তুলে নিয়ে বড় আকৃতির পিপেতে ভরে রাখা হয়।
একটা তিমির তেল সংগ্রহ করার কাজ শেষ হলে শুরু হয় আরেকটির সন্ধান। তিমি শিকার করতে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনারও শিকার হতো অনেক জাহাজ। হোয়েলম্যানদের ছোট নৌকাগুলো তিমির কাছাকাছি গেলে অনেক সময় তিমির লেজের বাড়িতে তা ভেঙে চৌরির হয়ে যেত।