মাদুরোকে পশ্চিমাদের আল্টিমেটাম

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আল্টিমেটাম দিয়েছে স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। আগামী আট দিনের মধ্যে নির্বাচন ও বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোকে স্বীকৃতি দিতে পশ্চিমা বিশ্ব এই আল্টিমেটাম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও দক্ষিণ আমেরিকার উল্লেখযোগ্য দেশই ইতোমধ্যে গুইদোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সহিংস বিক্ষোভের মাঝেই গুইদো নিজেকে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন।

চলমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোর সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েও সাড়া পাননি দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। গত শুক্রবার ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান মাদুরো জানান, তিনি তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ‘কথা বলতে প্রস্তুত’। তাৎক্ষণিকভাবে গুইদো এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। বলেন, তিনি ‘নকল সংলাপে’ অংশ নেবেন না।

গত চার বছর ধরে দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক সংকটাবস্থার মধ্যে খাবার ওষুধের সংকট তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের এক হিসাব মতে, এই সংকটাবস্থায় দেশটির ২০ লাখ মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়েছে। দ্বিতীয়বার মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর সর্বশেষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ক্ষমতায় বসতে চাইছেন পশ্চিমা মদদপুষ্ট গুইদো।

এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো শানচেজ টেলিভিশনে এক ভাষণে বলেন, ‘আগামী আট দিনের মধ্যে দেশে স্বাধীন, স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে স্পেন গুইদোকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার মানুষের অধিকার আছে স্বাধীনভাবে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার।’

দেশগুলোর মধ্যে স্পেন সবচেয়ে বেশি কট্টর অবস্থানে রয়েছে মাদুরোর বিরুদ্ধে। দেশটি ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুইদোকে স্বীকৃতি দিতে। কিন্তু অস্ট্রিয়া, গ্রিস এবং পর্তুগাল এখনো এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। বাস্তবে গ্রিসের শিরিজা নেতৃত্বাধীন সরকার মাদুরো সরকারকে সমর্থন দেয়। মাদুরো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট এমন বক্তব্য ক’দিন আগেই করেন শিরিজা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান করে যাচ্ছেন। যদিও মাদুরো অভিযোগ করছেন, ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলাতে ‘ক্যু’ করার চেষ্টা করছে একটি অবৈধ প্রেসিডেন্টকে স্বীকৃতি দিয়ে। গতকাল শনিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গুইদোকে স্বীকৃতি দিতে অন্য রাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানান।

মাদুরোকে উৎখাতের মার্কিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ক্যু সংঘটনের মাধ্যমে দেশটিতে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আরেকটি বিষয় করে তুলতে চাইছে। রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গত শুক্রবার বলেছেন, মস্কো প্রস্তাব করবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার।

নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার পর গুইদো ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে মাদুরোর পাশ থেকে সরে আসার আহ্বান জানালেও দেশটির সেনাপ্রধান বলেছেন, তার বাহিনী সরকারের সঙ্গেই আছে, থাকবে। বিরোধীরা চলতি সপ্তাহে কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে মাদুরোবিরোধী বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে। পশ্চিমারা গুইদোর পক্ষে থাকলেও মাদুরো রাশিয়া, চীনের মতো বিশ্বশক্তির সক্রিয় সমর্থন পেয়েছেন। মস্কো গুইদোকে দেওয়া বিভিন্ন দেশের সমর্থনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ‘রক্তপাতের পথে যাত্রা’ হিসেবেও অভিহিত করেছে তারা। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এরই মধ্যে রুশ সামরিক ঠিকাদাররা গোপনে ভেনেজুয়েলা পৌঁছেছেন বলে বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরান, মেক্সিকো, তুরস্ক, কিউবা, বলিভিয়া ও নিকারাগুয়ার মতো আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশও মাদুরো প্রশাসনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।