নোয়াখালীর কবিরহাটে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ বিএনপি নেতার স্ত্রী কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন না। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে বিরক্ত হচ্ছেন। স্বামী ও ছেলে-মেয়েদের দিকে তাকিয়ে করছেন কান্নাকাটি। এমন পরিস্থিতিতে তার মানসিক চিকিৎসা দরকার বলে জানিয়েছেন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের এক
চিকিৎসক। ওই নারীর স্বামী কিছুদিন আগে কারামুক্ত আবুল হোসেন ও আইনজীবী পলাশ জানান, বিষণ্ণতায় ভুগে ক্রমশ বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন তিন সন্তানের জননী। তিনি হাসিখুশি ও প্রাণচঞ্চল ছিলেন। কিন্তু এখন কথা বলতে চাইছেন না। কেউ কোনো প্রশ্ন করলে মুখ ফিরিয়ে নেন। স্বামী-সন্তানদের দিকে তাকিয়ে শুধু চোখের পানি ফেলেন। আর বেশির ভাগ সময় চোখ বন্ধ করে থাকেন।
হাসপাতালে সেই নারীর পাশে বসা আবুল হোসেন হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে বাঁচান। আমি আর কিছু চাই না।’ ওই সময় পাশে থাকা ছেলে ও দুই মেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন। আর তাদের দিকে তাকিয়ে তার স্ত্রী শুধু চোখের পানি ফেলেন। ওই নারীর আরেক আইনজীবী আবদুর রহমান জানান, তার মক্কেলের ধর্ষণের আলামত নষ্ট করা হয়েছে। ভিন্ন কাপড়-চোপড় আলামত হিসেবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। প্রধান সন্দেহভাজন ধর্ষণের বিষয়ে বিচারিক হাকিমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও চিকিৎসকদের প্রভাবিত করে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারীকে আইনি সহায়তা দিতে আইনজীবীদের প্যানেল করা হবে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্লাহ বলেন, ‘চিকিৎসকরা তার চিকিৎসায় তৎপর রয়েছেন এবং সবসময় তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। তবে তার ওপর যা ঘটেছে, তাতে মানসিক ডিপ্রেশন (বিষণœতা) থাকারই কথা। ওই রাতের কথা মনে হলেই সে মানসিকভাবে ডিপ্রেশনে ভোগেন। এর কারণে তার যেকোনো সময় মানসিক রোগেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এখন তার মানসিক পুনর্বাসন জরুরি।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক জাকির হোসেন জানান, ধর্ষণের মামলায় রিমান্ডে থাকা আবদুর রব হোসেন মান্নান, হারুনুর রশিদ ও সেলিম ৪ দিন রিমান্ডে থেকেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। এ কারণে গতকাল শনিবার আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জন্য আর রিমান্ডের আবেদন করা হবে না। আর ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিনের রিমান্ড শুনানির পর রিমান্ডের আদেশ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রধান আসামি জাকিরের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী ও তদন্তে আসা ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গত ১৮ জানুয়ারি গভীর রাতে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল হোসেনের স্ত্রী ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন’। ওই সময় তার স্বামী কারাগারে ছিলেন। ওই নারীর অভিযোগ, স্থানীয় যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে সাত থেকে আটজন ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় কবিরহাট থানায় মামলা হলে পরে তা ডিবিতে স্থানান্তর হয়। ডিবি এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।