জেসন হোল্ডার বীরত্বে উইন্ডিজের ইতিহাস

বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস লুটিয়ে পড়ল রোস্টন চেজের ঘূর্ণিতে। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগারে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৮১ রানের রেকর্ডগড়া জয় এনে দিয়েছেন তিনি। সুবাদে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্ট সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। ৬০ রানে ৮ উইকেট নিয়ে চেজ একাই ইংল্যান্ডকে ২৪৬ রানে বেঁধে ফেলেন। সফরকারীদের জয়ের জন্য ৬২৮ রানের অসম্ভব টার্গেট ছুড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যা তাড়া করা কখনই সম্ভব ছিল না ইংলিশদের জন্য। তাই তো নিজেদের ৯১ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে ঘরের মাঠে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জিতল ক্যারিবীয়রা। আর হোম-অ্যাওয়ে মিলিয়ে দলটির জন্য তৃতীয় সেরা জয় এটি।

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা ইংল্যান্ডকে হারানোর শেষ আঁচড়টা হয়তো চেজ দিয়েছেন। কিন্তু এ ম্যাচে জয়ের কারিগর একমাত্র জেসন হোল্ডার। তার রেকর্ডে ভরা অলরাউন্ড পারফর্ম দিয়েই ঘরের মাঠে ইংলিশদের বিপক্ষে এগিয়ে থাকা অব্যাহত রাখল উইন্ডিজ। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি (২০২) হাঁকিয়ে অবিশ্বাস্য কীর্তির শুরু। শেন ডওরিচকে (১১৬) নিয়ে ২৯৫ রানের অপরাজিত জুটি গড়েন। ৬ উইকেটে ৪১৫ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসের লিড মিলিয়ে টার্গেট দাঁড়ায় ৬২৮। যা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া সর্বোচ্চ টার্গেটের রেকর্ড।

টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং অর্ডারের সপ্তম বা তার নিচে নেমে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল কেবল স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের। তার পরেই এখন হোল্ডার। আর দুই ইনিংস মিলিয়ে এত নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিশতক হাঁকানোদের মধ্যে ইমতিয়াজ আহমেদ ও ওয়াসিম আকরামের পর আছেন হোল্ডার। এছাড়া টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি এবং ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া ষষ্ঠ ক্রিকেটার হয়েছেন উইন্ডিজ অধিনায়ক। এ তালিকায় আছেন ওয়াসিম আকরাম, ভিনু মানকাড়, ইয়ান বোথাম, অ্যালান বোর্ডার ও সাকিব আল হাসান। আর অধিনায়ক হিসেবে ওয়াসিম ও বোর্ডারের পর এই

কৃতিত্ব গড়া তৃতীয় ক্রিকেটার তিনি। ক্যারিবীয় অধিনায়কের এসব কৃতিত্বেই রেকর্ডগড়া জয় মিলল ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস : ২৮৯ ও ৪১৫/৬ডি.।

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস : ৭৭ ও ২৪৬ (বার্নস ৮৪, স্টোকস ৩৪, বেয়ারেস্টা ৩০, বাটলার ২৬, রুট ২২; চেজ ৮/৬০)।

ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৮১ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : জেসন হোল্ডার।