দুর্নীতি প্রতিরোধে সাংবিধানিক সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ চট্টগ্রামের একটি স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার আট শিক্ষকের মধ্যে সাতজনকে অনুপস্থিত পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল রবিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাট্টলী এলাকার নূরুল হক চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টচার্য জানিয়েছেন।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে দুদক চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরই মধ্যে তার কাছে একটি মাধ্যম থেকে খবর আসে, চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। তখন তিনি কাট্টলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের বাইরে দেখতে পান। ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক প্রয়োজনে দণ্ডবিধির ১৬৬ ধারা প্রয়োগ করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। পরে তিনি ভাটিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ১১ জন শিক্ষকের মধ্যে দুজনকে অনুপস্থিত পান। স্কুল কর্র্তৃপক্ষ এদের অনুপস্থিতির কারণ জানাতে পারেননি। দুদক চেয়ারম্যান তখন ছাত্রছাত্রীদের হাজিরা খাতা পরীক্ষা করে দেখেন, আগের দিন যেসব শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল, তাদের অনেককেই উপস্থিত দেখানো হয়েছে। আবার রবিবার বেলা ১০টা পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের রোলকল করা হয়নি। এ বিষয়েও স্কুল কর্র্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। পরে এরপর দুদক চেয়ারম্যান যান নগরীর শীতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে গিয়ে তিনি নবম শ্রেণিতে এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করা ছাত্রছাত্রীদের দুই হাজার টাকার বিনিময়ে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক অনির্ধারিত মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সকল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। দুদক দণ্ডবিধির ১৬৬ ধারা প্রয়োগ করতে চায় না। এ জন্য বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরকারি সেবা নিশ্চিতকল্পে সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখাতে হবে।
তিনি বলেন, দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার তদন্ত বা অনুসন্ধান সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ কোনো টেলিফোন করলে ধরে নিতে হবে, এই ব্যক্তি ভুয়া দুদক কর্মকর্তা। কারণ এসব বিষয়ে দুদক কর্মকর্তাদের টেলিফোন করার ক্ষেত্রে কমিশনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে’ অর্থপাচার বন্ধ করতে আমদানি মূল্য পরিশোধের তথ্য দুদকে জমা দিতে হবে। এসব পরীক্ষা করে ‘ওভার ইনভয়েসিংয়ের’ সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ, ভূমিসহ অন্যান্য সব সরকারি সেবা স্বচ্ছতা ও জবাদিহিমূলক পরিবেশে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এর ব্যত্যয় হলে দুদকের সামনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় থাকবে না। তাই সবাইকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।