শেরপুরে ছাত্রলীগের হামলায় দাঁত ভাঙল এএসআইয়ের!

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা থানা পুলিশের দুই সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হান্নান ও মো. রফিকুল ইসলাম ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় এএসআই আবদুল হান্নানের কয়েকটি দাঁত ভেঙে যায়।

রোববার রাতে শ্রীবরদী শহরের চৌরাস্তা মোড়ে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক জিয়াউল হক জেনারেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রায় সময়ই শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে কিছু বখাটে যুবক নানা ধরনের নেশা করতো। এনিয়ে চিকিৎসকরা থানায় অভিযোগ করে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যায় থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নির্দেশে শ্রীবরদী থানার দুই এএসআই আবদুল হান্নান ও মো. রফিকুল ইসলাম হাসপাতালের ভেতর থেকে কয়েকজনকে থানায় ডেকে নিয়ে আসে।

পরে ওসি রহুল আমিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ভবিষ্যতে হাসপাতালের ভেতর না যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়ে ছেড়ে দেন।

স্থানীয়রা জানায়, বখাটেরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ধরার সময় তাদের মৃদু চড়-থাপ্পড় দেয় পুলিশ সদস্যরা।

এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যা ৮টার দিকে এএসআই আবদুল হান্নান ও মো. রফিকুল ইসলাম শ্রীবরদী বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে দায়িত্ব পালন করতে গেলে দুজনের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করে এবং মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। হামলায় এএসআই আবদুল হান্নানের কয়েকটি দাঁত ভেঙে যায়।

এএসআই আবদুল হান্নান ও মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চৌরাস্তা মোড়ে কর্তব্য পালন করা অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ করে কয়েকজন যুবক আমাদের ওপর হামলা করে। অল্পের জন্য আমরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।

শ্রীবরদী উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. মেরাজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বেশ কয়েকজন যুবকের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। তাদের কেউ চিনে না। এরা ছাত্রলীগের কেউ না।

তিনি বলেন, ‘রাতে আমি ও আমার যুগ্ম-আহ্বায়ক জেনারেল হেঁটে যাচ্ছিলাম। এসময় পুলিশ এসে জেনারেলকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে লাঞ্ছিত করে।’

ওসি রহুল আমিন তালুকদার বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীবরদী-নালিতাবাড়ী সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুলিশ সদস্যদের মারধর করার অভিযোগে জেনারেল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।