নিসচা’র প্রতিবেদন

সড়কে নিহতের ৪২ শতাংশই গাড়িচাপায়

গত বছর দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ৪২ শতাংশই গাড়িচাপার শিকার বলে জানিয়েছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনার এই পরিসংখ্যান প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় সারা দেশে ৪ হাজার ৪৩৯ জনের প্রাণ গেছে। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ নিহত হয়েছে গাড়িচাপায়, ২৪ শতাংশ দুই যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৭ শতাংশ গাড়ি উল্টে, ৪ শতাংশ গাড়ি খাদে পড়ে ও নানাভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এক বছরে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ১০৩টি। এতে আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৪২৫ জন।

ছয়টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, শাখা সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানান ইলিয়াস কাঞ্চন। প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, দুর্ঘটনায় যাদের প্রাণ গেছে, তাদের মধ্যে ৫৬৬ জনই চালক। এর মধ্যে মোটরসাইকেল চালকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ১৬০ জন। এছাড়া ৬৪ জন বাসচালক ও ৫৯ জন ট্রাকচালক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে জুন মাসে ৩৮১ জন, আর সবচেয়ে কম নভেম্বরে ২৪৫ জন। তবে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে সড়কে ৫ হাজার ৬৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আইন অমান্য করে ধীরগতির বাহন মহাসড়কে এখনো চলাচল করে, যা দূরপাল্লার বড় গাড়িগুলোর চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। অবৈধ যানবাহন চলাচলে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতাও আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পক্ষ থেকে বেশি কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের পাশাপাশি স্কুলের পাঠ্যসূচিতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা বাস্তবায়ন, ট্রাফিক নির্দেশনা অমান্য করা, যত্রতত্র গাড়ি রাখা, নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যাত্রী তোলা বা নামানো, ওভারটেক করা, প্রতিযোগিতা বা বেপরোয়া গাড়িচালনা, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং থাকার পরও তা ব্যবহার না করার প্রবণতা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।