চলতি সপ্তাহে তীব্র থেকে তীব্রতর শীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি দেশটির কোনো কোনো অঞ্চলে দেশটির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অ্যান্টার্কটিকার কোনো অংশ থেকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত এক সপ্তাহে ঠান্ডাজনিত কারণে অন্তত তিনজন মারা গেছে বলে জানা গেছে।
সিএনএন জানায়, এবার শৈত্যপ্রবাহ ও অতিরিক্ত ঠান্ডার অতীত রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।
ডাকোটা থেকে সমুদ্র তীরবর্তী লং আইল্যান্ড পর্যন্ত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের মানুষদের ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস অফিস।
এক টুইটার বার্তায় তারা জানায়, ৫০ এর নিচে তাপমাত্রা নেমে যাওয়া এলাকাগুলোতে পাঁচ মিনিটের জন্য ঘরের বাইরে আসলে মানুষের দেহের চামড়া অবশ হয়ে যাচ্ছে।
মিনেসোটাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে যা দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে রেকর্ড।
এদিকে ভয়াবহ এক শৈত্যপ্রবাহ দেশের মধ্য-পশ্চিম অঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত ধাবিত হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত ঠান্ডার এ প্রবাহ অঞ্চলগুলোর অতীত সব রেকর্ড ভেঙে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে তীব্রতর ঠান্ডার প্রকোপে আরও মৃত্যুর ঘটনার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
গরম কিংবা শীতে বা বৃষ্টিতে দিনরাত কখনো যুক্তরাষ্ট্রের ডাক যোগাযোগ বন্ধ থাকে না। কিন্তু এবার রেকর্ড পরিমাণ শীতে ছয়টি অঙ্গরাজ্যে চিঠি বিলি বন্ধ করে দিতে হয়েছে ডাক কর্মীদের।
তুষারপাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব নাজুক পরিস্থিতি ধারণ করায় আরও চার অঙ্গরাজ্যের কিছু এলাকায় ঢুকতে পারছেন না তারা।
ডাক কর্তৃপক্ষ জানায়, ইলিনয়, আইওয়া, মিনেসোটা, সাউথ ডাকোটা, নর্থ ডাকোটা ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে এবং কানসাস, মিসৌরি, মোনটানা ও নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের কিছু এলাকায় ডাক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটছে। তুষারপাতে বন্ধ হয়ে গেছে একাধিক এলাকার সড়ক যোগাযোগ। ফ্লাইটঅ্যাওয়ার সূত্রে জানা গেছে, দুদিনের জন্য বাতিল করা হয়েছে ২৭০০ এরও বেশি ফ্লাইট।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বরফজমা শীতের প্রকোপে পড়বে দেশটির জনসংখ্যার ৭২ শতাংশ মানুষ (২১২ মিলিয়ন)। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৮৩ মিলিয়নেরও অধিক মানুষকে শূন্যের নিচের তাপমাত্রার শীতের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।