ভেনেজুয়েলায় রাশিয়ার একটি বোয়িং বিমানের অস্বাভাবিক ফ্লাইট অবতরণ করেছে। দেশটির রাজধানী কারাকাসে পৌঁছা রুশ যাত্রীবাহী বিমানের ফ্লাইটটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব সৃষ্টি হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, অন্তত ৪০০ যাত্রী বহনকারী বিশাল বোয়িং-৭৭৭ বিমানটি কারাকাসের বিমানবন্দরের ‘প্রাইভেট’ এলাকায় অবস্থান করছে। এর আগে সরাসরি মস্কো থেকে রওনা দিয়ে ফ্লাইটটি কারাকাসে অবতরণ করে।
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও বিরোধী দলের বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হলে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সহায়তা দিতে গোপন কোনো মিশন নিয়ে এ ফ্লাইট এসেছে ক্রেমলিন থেকে।
এনডিটিভি জানায়, নর্ডউইন্ড পরিচালিত বিমানটির ভেনেজুয়েলায় এটিই প্রথম ফ্লাইট। এর আগে এই রুটে কোনো সময় ভ্রমণ করেনি ফ্লাইটটি।
এ ব্যাপারে নর্ডউইন্ড কর্তৃপক্ষ এবং ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলো যোগাযোগ করলে তারা কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে গেছে। অনেকের মতে, মাদুরোর কাছে ভাড়াটে সৈন্য পাঠানো হয়েছে, যারা তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে। আবার অনেকেই মনে করছেন, মাদুরোর জন্য বিপুল সোনা বোঝাই করা হচ্ছে বিমানটিতে।
যদিও এসব গুজব ও ধারণার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি এখন পর্যন্ত। তবে দেশটিতে জল্পনা-কল্পনা চলছে যে, নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা মাদুরো যে কোনো মুহূর্তে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দিতেও পারেন।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার পরিচালনার জন্য গত বছরের শেষের দিকে বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জিতে আসলেও বিরোধী দল তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের অধিকাংশ দেশ এ নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিলে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়।
এরমধ্যে বিরোধী দলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা দেন। তাকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় এবং দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনে। সেই সঙ্গে ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ দেশও তাকে সমর্থন দেয়। এদিকে মাদুরোর পাশে থাকার ঘোষণা দেয় রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও কিউবা।
সর্বশেষ জানা গেছে, স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট।