ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি-আরব আমিরাত জোটকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধে আইন প্রণয়নে ফের তোড়জোড় চালাচ্ছেন মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা।
দুই মার্কিন রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি সমঝোতা দল এ ব্যাপারে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
আলজাজিরা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে যুদ্ধ বন্ধে ডেমোক্র্যাট ও বিপুল পরিমান রিপাবলিকানদের সমর্থন নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নীতিনির্ধারণী দলটি। তবে এ ক্ষেত্রে একমাত্র বাধা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে ইয়েমেনে সৃষ্ট মানবিক সংকট এবং সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রে জনমত তৈরি হয়েছে যে, দেশটির গৃহযুদ্ধে সৌদি-আমিরাত জোটকে মার্কিন সহায়তা বন্ধ করা উচিত।
ফলে রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস, রিয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কংগ্রেসে ট্রাম্পকে তারা বাধ্য করতে পারবেন।
প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “যখন ইয়েমেনিরা ‘মেড ইন ইউএসএ’ খচিত বোমা দিয়ে তাদের হত্যা করা হচ্ছে, তখন তারা এ যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করছে।”
তিনি বলেন, “বিশ্ববাসীর কাছে এমন বার্তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনোভাবেই উচিত হচ্ছে না।’
স্বৈরাচারী সৌদি সরকারের সঙ্গে বেআইনি সামরিক নীতির সঙ্গে জড়ানো এবং এমন বিপজ্জনক ও বিপর্যয়মূলক যুদ্ধকে সমর্থন করা উচিত নয়।
ডিসেম্বরে সিনেটের আগের অধিবেশনেও ৫৬-৪১ একটি যুদ্ধবিরোধী বিল পাশ হয়েছিল।
নীতিনির্ধারকেরা সেই বিলটি এখন ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে তুলতে যাচ্ছে। এখানে বিলটি পাশ হয়ে গেলে উচ্চকক্ষ সিনেটে নীতিনির্ধারকদের এ সিদ্ধান্ত আরও শক্তিশালী উঠবে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, ‘প্রতিনিধি পরিষদে এ বিল আনা উচিত এবং বিপুল ভোটে সমর্থন আদায় করে সিনেটে তোলা।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে সৌদি-আরব আমিরাত জোটের যুদ্ধ জাহাজকে জ্বালানি সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে হুথিদের বিরুদ্ধে, যেখানে নিহত হচ্ছে অনেক নিরপরাধ মানুষও।
যদিও গত বছর ১০ নভেম্বর মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, জোটটিকে জ্বালানি সহায়তা স্থগিত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের আহ্বানে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে সৌদি আরবের ওপরে চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ৩০ জানুয়ারি সতর্ক করে যে, সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ চরম আকার ধারণ করায় যুদ্ধবিরতি অকার্যকর হয়ে পড়ছে।