নীরব ঘাতক রোগ পারকিনসন। ২০১৫ সালে পৃথিবীর ৬২ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল এই রোগে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ১১৭ হাজার ৪০০ জন মারা গিয়েছিল। অনেকেই মনে করে থাকেন, এ রোগ ভালো হয় না বা এ রোগের চিকিৎসা নেই। তবে এটি পুরোপুরি সত্য নয়। এ রোগের চিকিৎসা আছে। পুরোপুরি নির্মূল করা না গেলেও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।
পারকিনসন রোগ কী?
পারকিনসন রোগ (ইংরেজি : Parkinson’s disease) হলো এক ধরনের নিউরো-ডিজেনারাটিভ বা স্নায়বিক রোগ বা স্নায়ু-অধঃপতনজনিত রোগ। রোগটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন : পারকিনসোনিসম বা প্যারালাইসিস এজিট্যান্স বা শেকিং পালসি।
পারকিনসন রোগের কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে গবেষকরা ধারণা করছেন, জেনেটিক ও পরিবেশগত উভয় উপাদানের জন্য এ রোগ হয়।
কাদের বেশি হয়?
-অল্পবয়স্ক ব্যক্তিরা খুব কমই পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হন। এটা সাধারণত মধ্য বয়সে শুরু হয় এবং ঝুঁকি বয়স বাড়ার সঙ্গে বৃদ্ধি পায়।
-পরিবারে কারও পারকিনসন রোগ থাকলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
-নারীদের তুলনায় পুরুষরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন।
লক্ষণ
পারকিনসন রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় অনেক পড়ে। শুরুতে লক্ষণ এতটা বোঝা যায় না। তবে কিছু লক্ষণ দেখলে ধারণা করা যায় পারকিনসন হতে পারে।
-অকারণে হাত-পা, মাথা ও থুতনি কাঁপা।
-হাঁটাচলার মন্থরতা বা জড়তা দেখা দেওয়া।
-শরীরের ভারসাম্য কমে যাওয়া।
-হাত, পা ও শরীরের মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া। যেমন : হাত ঘুরাতে গেলে বেশ কষ্ট হয়।
-গলার স্বর আগের থেকে ভারী ও শান্ত হয়ে যাওয়া।
-উদ্বেগ, বিষণœতা ও অবসাদ দেখা দেওয়া।
-স্মৃতিভ্রংশ দেখা দেওয়া।
-কিছু গিলতে অসুবিধা ও অত্যধিক লবণাক্ততা।
-ঘ্রাণের অনুভূতি শক্তি কমে যাওয়া।
-অতিরিক্ত ঘামা বা একেবারে কম ঘামা।
-চামড়ার নানাবিধ সমস্যা দেখা দেওয়া।
-হঠাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া।
-মূত্রনালিতে সমস্যা ইত্যাদি।
পারকিনসন রোগ নির্ণয় করতে পারে এমন কোনো পরীক্ষা নেই। চিকিৎসকরা রোগের ইতিহাস জেনে ও শারীরিক পরীক্ষা করে এ রোগ সম্বন্ধে নিশ্চিত হন। তাই এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
লেখক : ডা. বিবেকানন্দ সরকার, পিটি
ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট
ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার, উত্তরা, ঢাকা