ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন
কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
গতকাল মঙ্গলবারের অভিযানে শাহ সিমেন্টের গোডাউন, স’মিল ও তিনতলা ভবনসহ ১৫০টি কাঁচা-পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। চার দিন বিরতির পর নবাবচর এলাকা থেকে শুরু হলো অভিযান।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, নদীর তীর দখল করে স্থাপনা নির্মাণের দায়ে শাহ সিমেন্টের দুই কর্মচারীসহ তিনজনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (ঢাকা বন্দর) এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযানে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। স্থানীয়রাও সহযোগিতা করছে। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।’ পূর্ব ঘোষিত ১১ দিনের পরিবর্তে ১৩ দিন উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানায় কামরাঙ্গীরচরের লোকজন। তবে অনেকের আশঙ্কা আবারও দখল হয়ে যাবে বুড়িগঙ্গার তীর। স্থানীয় মনির হোসেন বলেন, ‘এর আগেও উচ্ছেদ অভিযানের কিছুদিন পর আবার বসানো হয় স্থাপনা।’
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি থেকে তিন দিনব্যাপী অভিযানে ৪৪৪টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। সদরঘাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত নদীর দুই তীরে ৬০৯টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি বহুতল ভবন। নদীর জমি উদ্ধারের পর তা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘উচ্ছেদ করা জায়গায় সবুজ বেষ্টনী নির্মাণ করে নদীর তীরের সৌন্দর্য বাড়ানো হবে।’ স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের ব্যাপারে যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।