জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি, চরম চাপে পারিবারিক অর্থনীতি: সিপিডি

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে, যা পারিবারিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দেশীয় কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সিপিডির মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এই মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে পৌঁছেছে। মূলত জ্বালানি, পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবার ব্যয় বৃদ্ধিই এই মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ।

সংস্থাটি জানায়, বাজারে যেভাবে পণ্যের দাম ও সেবামূল্য বাড়ছে, সেই তুলনায় সাধারণ মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের বাজারে জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। এই সময়ে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ এবং একই সাথে পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রুত পরিবহন খাতে পড়েছে। বাসভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বেশ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।

যানবাহনের জ্বালানির পাশাপাশি রান্নার জ্বালানির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরেছে সিপিডি। সংস্থাটির হিসাবে, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মার্চ মাসে ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা, যা জুন মাসে এসে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৫ টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি।

সিপিডি উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে দেশের ঝুঁকি কতটা বাড়তে পারে, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।

জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও মূল্যস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। সিপিডির মতে, সরবরাহ শৃঙ্খলে বহুস্তরীয় মধ্যস্বত্বভোগী এবং বাজারে অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণের কারণে খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সাধারণ ভোক্তারা আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত