সকালে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষক, রাতে মিলল লাশ

সোনাগাজীর চরমজলিশপুর ইউনিয়নের স্কুলশিক্ষক আহমদ উল্লাহ সকালে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সন্ধ্যায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত শিক্ষক সোনাগাজীর মজলিশপুর ইউপির চরলক্ষীগজ্ঞ গ্রামের জমাদার বাড়ির আবু আহাম্মদের ছেলে। তিনি দাগনভুঞা উপজেলার মাতুভুঞা ইউনিয়নের করিম উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও অফিস সহকারীর পদে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের পরিবার জানায়, ৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্কুলের উদ্দেশ্যে সোনাগাজীর চর মজলিশপুর ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীগঞ্জ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হন আহমদ উল্লাহ (৪৫)। বিকেলে বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। আত্মীয়-স্বজন সহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান মেলেনি তার।

৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুর ২টার দিকে স্ত্রী হোসনেআরা বেগম সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিখোঁজের পরদিন কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শিক্ষক আহম্মদ উল্লার মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন।

নিহতের স্বজনেরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে গত বুধবার দুপুরে তার স্ত্রী হোসনে আরা সোনাগাজী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

বুড়িচং থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত বুধবার দুপুরে বাকশিকুল ইউনিয়নের রেললাইনের পাশে আকাশি গাছের সঙ্গে গলায় মাফলার জড়ানো লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত আহমদ উল্লাহ ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক।

মাতুভুঞা করিম উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আলমগীর হোসেন ও প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারি ভৌমিক বলেন, কয়েকমাস ধরে তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকার কারণে মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। গত মঙ্গলবার ছুটি শেষে স্কুলে যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি স্কুলে আসেনি।