তাবলিগের দুই পক্ষের ইজতেমা হবে আলাদা

সরকারের হস্তক্ষেপে নেতৃত্ব নিয়ে বিবদমান তাবলিগ জামায়াতের দুই পক্ষের মধ্যে আপাতত সমঝোতার পর ঢাকার উপকণ্ঠে টঙ্গীতে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমার আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে প্রতি বছরের মতো এবার ইজতেমা একসঙ্গে হচ্ছে না, দুই পক্ষ পর্যায়ক্রমে আয়োজন করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম ইজতেমার মুরুব্বি ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করেন। আগের দিন বিকেলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির অনুসারী ও দেওবন্দপন্থিদের নিয়ে সভা করেন। সেখানে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে চার দিনের ইজতেমা অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে দেওবন্দপন্থিদের সংগঠক তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা জোবায়েরের নেতৃত্বে ইজতেমা শুরু হবে। পরদিন মাগরিবের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই পক্ষ ইজতেমা শেষ করে তারা চলে যাবেন। যাওয়ার আগে তারা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাদপন্থী শুরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসেকুল ইসলামের নেতৃত্বে তাবলিগের আরেক পক্ষের কাছে মাঠ বুঝিয়ে দেবেন। তারা ১৭ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর ইজতেমা মাঠে প্রবেশ করে দুদিনের ইজতেমার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

দুই পক্ষের ইজতেমা শেষে মাঠের প্রস্তুতিতে কাজে লাগানো সরঞ্জামাদি নিয়ে দুই পক্ষের মুরুব্বিরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইজতেমা শেষে ময়দানে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছাড়া বাকি সরঞ্জামাদি স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবে। মাওলানা জোবায়েরের অনুসারী বিদেশি মেহমানরা দুদিন ইজতেমা শেষে উত্তরা হাজি ক্যাম্পে অবস্থান করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেবেন না। ইজতেমা চলাকালীন উভয় পক্ষের অনুসারীরা টঙ্গীর আশপাশের মসজিদগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবেন।

সভায় দেওবন্দপন্থি জোবায়েরের অনুসারীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, মাহফুজুর রহমান, মুফতি নেছার উদ্দিন, মুফতি নূরুল ইসলাম ও মোস্তফা এবং সাদপন্থীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মুহিবুল্লাহ, হাজি মোহাম্মদ হোসেন, হারুন অর রশিদ, শহীদ উল্লাহ, মনির হোসেন, মুফতি ফয়সাল ও আতাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষকে নিয়ে দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে প্রতিমন্ত্রী মাঠের প্রস্তুতি কাজের উদ্বোধন করেন এবং বৈঠকের ১০টি সিদ্ধান্ত সবাইকে পড়ে শোনান। এ সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, ইজতেমার প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে; বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মুসল্লিদের অজু, গোসল ও রান্নাবান্নার স্থান তৈরি, মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। নিরাপত্তার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

সাদপন্থী ও জোবায়েরপন্থিদের মধ্যে গত বছর পহেলা ডিসেম্বর ইজতেমা মাঠে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুজন নিহত ও শতাধিক মুসল্লি গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনার পর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়। পরে সরকার ও প্রশাসনের উদ্যোগে সমঝোতা বৈঠকে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ইজতেমা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।