ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় হবিগঞ্জ পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলছেন। ফলে শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এখন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর আবর্জনা স্তূপ করে রাখায় বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। বাড়ছে জনদুর্ভোগ। ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রথম শ্রেণির হবিগঞ্জ পৌরসভার আয়তন ৯ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় দেড় লাখ নাগরিকের বসবাস। কাগজে-কলমে পৌরসভার আয়তন না বাড়লেও শহরে প্রতিনিয়ত আবাসন ও লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনার পরিমাণও বাড়ছে।
পৌরসভার নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় হবিগঞ্জ বাইপাস রোড ও চৌধুরী বাজারের খোয়াই নদীর পাড়ে প্রতিদিন ময়লা ফেলা হচ্ছে। বাইপাসের পাশে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে আধুনিক স্টেডিয়াম, আনসার অফিস, কিবরিয়া মিলনায়তন, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, দ্য রোজেস কিন্ডারগার্টেন এলাকার বাতাস ভারী হয়ে থাকে। অপরদিকে, আবর্জনা পড়ে খোয়াই নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। শহরে বিনোদনের তেমন কিছু না থাকায় প্রতিদিন বিকেলে অসংখ্য নারী পুরুষ ও শিশু আধুনিক স্টেডিয়াম এলাকায় বেড়াতে আসে। এর পাশেই ভাগাড় থাকায় দুর্গন্ধে তারা বেশি সময় অবস্থান করতে পারে না। স্টেডিয়াম মার্কেটে একটি ফাস্টফুড দোকানের কর্মচারী নূরুল বলেন, পৌরসভা ময়লা ফেলার কারণে রাতদিন পুরো এলাকায় মাছি ভন ভন করে। বেড়াতে আসা লোকজন কোনো কিছু খেতে চায় না। পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মচারীদের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে দেড় টন ময়লা ফেলা হয় উল্লেখিত দুটি স্পটে। হবিগঞ্জ পৌরসভার সচিব ফয়েজ আহমেদ জানান, ডাম্পিং স্টেশনের জন্য বানিয়াচঙ্গের আতুকুড়ায় জমি কেনা আছে। কিন্তু স্থানীয় কৃষকরা সেখানে ডাম্পিং স্টেশন করতে বাধা দেওয়ায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি।