মেয়ের বিয়ের গরু নিয়ে বের হয়েছিলেন সাদেক

সব ঠিক থাকলে হরিপুরের রুহিয়া গ্রামের সাদেকের বড় মেয়ে স্মৃতি আক্তারের (১৯) বিয়ের বরপক্ষ গতকাল বুধবার আসত তাদের বাড়িতে। ঠিকঠাক হতো বিয়ের দিনক্ষণ। বড় মেয়ে স্মৃতিকে বিয়ে দিয়ে কিছুটা ভারমুক্ত হতেন সাদেক।

স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলের সংসার ছিল কৃষক সাদেকের। কিছু জমিজমা আছে। তাতে আবাদ, বর্গা চাষাবাদ আর গরু-ছাগল পালন করে সংসার চলত। বড় মেয়েকে ‘পার’ করতে প্রয়োজন প্রায় দুই লাখ টাকা। তাই ঘরের দুটি গরু গত মঙ্গলবার যাদুরানী হাটে বিক্রি করতে বের হন সাদেক। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যে ভটভটিতে করে গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন হাটে সেই গাড়ি আটক করে বিজিবি। এ নিয়ে বিজিবির সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক, গুলিৃ ব্যস, সাদেকের স্বপ্নসাধ ধূলিসাৎ। সাদেক ও নবাব ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় ১৫ জন। এদের মধ্যে শিশু জয়নুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পথে মারা যায়।

ওই দিন থেকে সাদেকের বাড়িতে আহাজারি চলছেই। সাদেকের স্ত্রী, তিন মেয়ে ও ছেলে সন্তানের কান্নায় ওই এলাকার আকাশ-বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছে। অভিভাবকহীন এই পরিবারে যেন নেমে এসেছে অমাবস্যার কালো ছায়া। গতকালও বাড়িতে প্রতিবেশীরা আসছেন দলে দলে, কিন্তু কেউ যে তাদের সান্ত¡না দেবেন এমন ভাষাও যেন নেই তাদের।

প্রতিবেশী ফাতেমা বেগম, কাউসার আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাদেককে কী দোষে প্রাণ দিতে হয়েছেÑ এর জবাব দিতে হবে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।