অস্ট্রেলিয়ার ‘চুরি হওয়া’ শিশুদের দুঃসহ অতীত

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে শিশু বয়সে কারাগারে বিরামহীনভাবে কান্নাকাটি করতেন ব্রায়ান মর্লে। ১৯৬০ সালে মায়ের কাছ থেকে পুলিশ তাকে কেড়ে নিয়েছিল। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ‘চুরি হওয়া প্রজন্মের’ অংশ হয়ে যান তিনি।ওই সময়ের সরকারি নথিতে বলা আছে, মর্লের মা মেরি একজন আদিবাসী নারী। তার ‘বুদ্ধিশুদ্ধি দুর্বল’, যে কারণে সন্তান লালন-পালনে অক্ষম তিনি। যদিও তিন সন্তানের লালন-পালনে সার্বক্ষণিক নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন ওই নারী।

মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মেলবোর্নের তুরানা রিসিপশন সেন্টারে ছিলেন মর্লে। সেখানে শিশুদের রাখা হতো। সে সময়কার কথা মনে করে পরিণত বয়সী এই ব্যক্তি বলেন, ‘এর ফলে আমি শুরুর পর্যায়েই পৃথিবীতে নিজেকে একা ভেবেছি। মানুষের মধ্যে থেকেও আমি একাকিত্ব বোধ করতাম; মনে করতাম এ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলতে পারে না। দুই বছর বয়সে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক ছিল।’অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন সরকার আদিবাসী শিশুদের শ্বেতাঙ্গদের মতো বানাতে চেয়েছিল। এর অংশ হিসেবেই মর্লেকে তার মায়ের কোল থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ১৯০০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত সময়ে মর্লের মতো এক লাখ আদিবাসী শিশুকে জোর করে তাদের বাড়ি ও সম্প্রদায় থেকে আলাদা করা হয়েছিল। তাদের শ্বেতাঙ্গ পরিবার কিংবা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়।

১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক ‘ব্রিংগিং দেম হোম’ (তাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনো) শীর্ষক প্রতিবেদনে এ শিশুদের কাহিনীগুলো উঠে আসে। ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেভিন রুড চুরি হওয়া শিশুদের কাছে ঐতিহাসিক জাতীয় ক্ষমা প্রার্থনা করেন।ওই ক্ষমা চাওয়ার ১১ বছর পর মর্লে বলেন, ভাইবোনের কাছ থেকে আলাদা করে তাকে আদিবাসী নয় এমন পরিবারের কাছে রাখা হয়। তিনি বলেন, দত্তক নেওয়া মা-বাবারা তাকে একবার বলেছিলেন, তার ভাই আছে জানলেও তারা তাকে দত্তক নিতেন।