স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, চিকিৎসকরা যাতে রোগীর কাছ থেকে ইচ্ছামতো ফি নিতে না পারেন, সেজন্য একটি ফি নির্ধারণ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসকদের রোগীর কাছ থেকে ফি নির্ধারণের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনপূর্বক একটি নীতিমালা প্রণয়নের চিন্তাভাবনা সরকারের রয়েছে।’ আওয়ামী লীগের আরেক সদস্য মো. মোজাফফর হোসেনের এক প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ মালেক বলেন, ‘চিকিৎসকের অভাবে দেশে বিদ্যমান ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় নেই। কারণ দেশের অধিকাংশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো), একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত আছেন। তবে কেন্দ্রগুলোতে এমবিবিএস ডাক্তারের পদ শূন্য থাকায় গরিব জনসাধারণ উন্নত চিকিৎসা সুবিধাপ্রাপ্তি থেকে কিছুটা বঞ্চিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে। নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সরকারি বিধি-বিধানের আলোকে তাদের সবাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পদায়ন করা হবে। শূন্যপদ দ্রুত পূরণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সেই আলোকে শিগগিরই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।’
আওয়ামী লগের সংসদ সদস্য নিজামউদ্দিন হাজারীর লিখিত প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে জেলা-উপজেলায় বার্ন ইউনিটের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির রোগীদের উন্নতমানের চিকিৎসার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল চালু করেছে। চাপ কমানোর লক্ষ্যে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করেছে। এছাড়া ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মুগদা জেনারেল হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’