কথা-কবিতায় মাধবীবরণ

ঝরাপাতার দিন পেরিয়ে প্রকৃতিতে ফাগুন আসে মাধবী ফুলের হাত ধরে। কোকিলের কুহুগানে এ ফুলের শোভা-সৌরভে চারপাশ এখন মুখর। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতা-গানে মাধবীলতাকে অনন্য রূপে তুলে ধরলেও ফুলটি চেনেন না অনেকেই। কেউ কেউ মধুমঞ্জরীলতা বা মধুমালতীকে মাধবী ভেবে ভুল করেন। প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রিয় ফুলটিকে ঘিরে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রমনা পার্কে হয়ে গেল ‘মাধবীবরণ উৎসব’। তরুপল্লবের চতুর্থবারের এ আয়োজনে যোগ দেন শতাধিক মানুষ।

কথা, কবিতা, গানে ছিল মাধবী ও প্রকৃতিবন্দনা। তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কথাসাহিত্যিক ও নিসর্গী বিপ্রদাশ বড়–য়া, সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দীন আহমদ, উদ্ভিদবিদ দ্বিজেন শর্মার সহধর্মিণী দেবী শর্মা, তরুপল্লবের সহ-সভাপতি শাহজাহান মৃধা বেনু, লেখক ও ব্যাংকার ফারুক মঈনুদ্দীন, কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না, লেখক দ্রাবিড় সৈকত, মাধবীলতা প্রমুখ। দ্বিজেন শর্মার ছেলে সুমিত্র শর্মা রমনা পার্কে এই উদ্ভিদবিদের ভাস্কর্য স্থাপন করে চত্বরের নামকরণের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘এমন উদ্যোগ নিলে নতুন প্রজন্ম তার সম্পর্কে জানতে পারবে এবং পরিবেশ-প্রকৃতি সুরক্ষায় অনুপ্রেরণা পাবে।’

অনুষ্ঠানে কবিতা ও গান পরিবেশন করেন আমিনুর রহমান সুলতান, দেবাশিস বিশ্বাস, গোলাম শফিক, বিলু কবীর, মতিন রায়হান, বিপ্লবী ঘোষ, বকুল আশরাফ ও রুদ্র হাসান। আয়োজনের শেষে ছিল মুড়ি-মুড়কিসহ বিচিত্র খাবারের সমন্বয়ে বাসন্তী আপ্যায়ন। ২০০৮ সালের ৫ ডিসেম্বর রমনাপার্কে গাছ চেনানোর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তরুপল্লবের যাত্রা শুরু। তরুপল্লব এ পর্যন্ত ২৮টি গাছ চেনানোর অনুষ্ঠান, উদ্যানকর্মীদের নিয়ে কর্মশালা, বৃক্ষরোপণ ও প্রকৃতিবিষয়ক সাময়িকী প্রকৃতিপত্র প্রকাশসহ সচেতনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।