বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ মাছ-মাংসও চড়া

‘মাছ কিনেছি চড়া দামে। পেঁয়াজের বাজারে গিয়ে দেখি কেজিতে ৫ টাকা বেশি। সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। এমন হলে আমরা সাধারণ মানুষ যাব কোথায়?’ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে আসা সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা শাহাদাৎ আলম এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়ায় সরকারের নজরদারির দাবিও জানান তিনি।

কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হলসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজারে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। হঠাৎ করেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মুরগি, আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম। শুক্রবার প্রতি কেজি মুরগির মাংসের দাম ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১৬০ ও পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা দরে। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ২২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। রসুন কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১০০, আদা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে সব ধরনের মাছ। সবজির দামেও অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫-১০ টাকা করে। শীতের সবজি শেষ হতে না হতেই আগাম পাওয়া যাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন সবজি। এগুলোর দামও বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। কারওয়ান বাজারে গত সপ্তাহে ১০-১৫ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হওয়া বেগুন, শালগম, মুলা, পেঁপে ও শিম এখন ২০ টাকার নিচে মিলছে না। গত সপ্তাহে ১০-২০ টাকা পিস বিক্রি হাওয়া ফুলকপির দাম বেড়ে হয়েছে ১৫-৩০ টাকা। বাজারে নতুন আসা কচুর লতি বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হয়েছে চিচিঙ্গা ও করলা। লাউ বিক্রি হয়েছে ৫০-৭০ টাকা পিস। আর ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা।

তবে কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে শাক, টমেটো ও নতুন আলু। আগের মতো পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হয়েছে ১৫-৩০ টাকা। নতুন আলু ১৫-২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। কাঁচামরিচের কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সব ধরনের শাক বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১৫ টাকা আঁটি। তবে লাউশাক আঁটিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা স্বপন বলেন, ‘কচুর লতি ও চিচিঙ্গা বাজারে নতুন এসেছে। এ কারণে দাম একটু বেশি। এছাড়া শীতের সবজির সরবরাহ কমতে শুরু করেছে, যে কারণে কিছুটা দাম বাড়ছে।’

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৫৫ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৪০-১৪৫ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫-১০ টাকা। এ নিয়ে টানা তিন সপ্তাহে কেজিতে বাড়ল প্রায় ২৫ টাকা। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি কক মুরগি। লাল লেয়ার মুরগি আগের সপ্তাহের মতোই বিক্রি হয়েছে ১৯৫ থেকে ২০৫ টাকায়। আর পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৬০-২৮০ টাকা কেজি দরে। বিয়ে ও পিকনিককে কেন্দ্র করে হঠাৎ মুরগির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানান হাতিরপুলের মুরগি বিক্রেতা মতিন।

বাজারে ডিম, গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গরুর মাংস আগের মতোই ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। মুরগির ডিম প্রতি ডজন ৯৫-১০০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৫৫ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ১৭০ টাকা ডজন বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। এখন ১৫০ টাকা কেজি দরের নিচে কোনো মাছ মিলছে না। গতকাল সস্তা মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাশ বাজারভেদে বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৮০ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহ আগে বিভিন্ন বাজারে এ মাছ ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া রুই ও মৃগেল মাছের দাম এক লাফে বেড়ে হয়েছে ২৬০-২৮০ টাকা। তবে বড় আকারের রুই মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারভেদে বড় রুই কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫৫০ টাকায়। পাবদা মাছ বিক্রি হয়েছে ৫০০-৭০০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫০-৬০০ টাকা। তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৮০ টাকা কেজিতে। সপ্তাহের ব্যবধানে যা বেড়েছে ১০ টাকার মতো। অপরিবর্তিত রয়েছে টেংরা, শিং ও বোয়ালের দাম। টেংরা আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হয়েছে ৫০০-৬৫০ টাকায়। শিং বিক্রি হয়েছে ৪০০-৬০০ টাকা, বোয়াল ৫০০-৮০০ টাকা ও চিতল মাছ ৫০০-৮০০ টাকা কেজিতে।