পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর গত শনিবার ২০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার জবাবেই নয়াদিল্লি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইকোনমিক টাইমস। এর আগে বৃহস্পতিবারের হামলার পর গত শুক্রবার পাকিস্তানকে ১৯৯৬ সালে দেওয়া ‘মোস্ট ফেভারড ন্যাশন’-এর তকমা তুলে নেয় পাকিস্তান।
গত শনিবার ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এক টুইটবার্তায় জানান, পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা সকল পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ অতিরিক্ত কর আরোপ করা হচ্ছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পুলওয়ামাতে আরডিএক্স বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’-এর গাড়ি বহরে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে বহরের ৭০টি গাড়ির মধ্যে একটি বাস সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। এতে প্রাণ হারায় বাহিনীর অন্তত ৪৪ সদস্য। হামলার পর পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ ঘটনার দায় স্বীকার করে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, তাদের হয়ে পুলওয়ামারই বাসিন্দা আদিল আহমেদ দার ওই হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় ভারত দাবি করছে, পাকিস্তানের মদদেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।
এই শুল্ক আরোপের ফলে পাকিস্তানের ৩৮১ মিলিয়ন ডলার পণ্যের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে। গত এপ্রিল থেকে নভেম্বরে পাকিস্তানের ৪৮৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ভারতে প্রবেশ করে। এর বিপরীতে পাকিস্তানে ভারতের রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে আছে ফল, বাদাম, জিপসাম, সালফার, চামড়া, খনিজ তেল, সিমেন্ট এবং আকরিক।
ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়। এর মধ্যে ভারতীয় রপ্তানির পরিমাণ-ই বেশি। রাসায়নিক দ্রব্য থেকে শুরু করে সবজি-লোহাসহ বেশ কিছু পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি করে ভারত। বিপরীতে পাকিস্তানও কিছু পণ্য ভারতে রপ্তানি করে। সেইসব পণ্য ভারতে পাঠাতে গেলে এখন থেকে বাড়তি শুল্ক গুনতে হবে ইসলামাবাদকে।
পাকিস্তানের কৃষিপণ্যের ওপর এতদিন ১১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ শুল্ক ধার্য ছিল ভারতের। ভারতের এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এমনকি সন্ত্রাসী হামলা নিয়েও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কোনো মন্তব্য করেননি।
পাকিস্তানের কাছে চা রপ্তানি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের চা রপ্তানি সংগঠন। সে দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে লেখা চিঠিতে রপ্তানি বন্ধের প্রস্তাব পাঠিয়েছে তারা।
ভারতের চা রপ্তানি কমিটি জানিয়েছে, হামলার পর তাদের ক্ষতি মেনে নিয়ে পাকিস্তানে চা রপ্তানি বন্ধ করার ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই। তারা বলছে, তাদের কাছে দেশের স্বার্থ আগে এবং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।
কমিটির চেয়ারম্যান অংশুমান কানোরিয়া বলেন, ‘অবশ্যই আমরা প্রস্তুত আছি। কেন্দ্র সরকার বললেই আমরা পাকিস্তানে চা রপ্তানি করা বন্ধ করে দেব। আগে দেশ আর দেশের নিরাপত্তারক্ষীদের সুরক্ষা, তারপর বাণিজ্য।’