শুষ্ক মৌসুম শুরু না হতেই যমুনা নদীতে পানির প্রবাহ মাত্রাতিরিক্ত হারে কমে গেছে। এতে ভয়াবহ আকারে সৃষ্টি হয়েছে পানির নাব্য সংকট। এছাড়া, যমুনার বুকে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল চর। ফলে সিরাজগঞ্জের চৌহালী-এনায়েতপুর নৌরুট শুকিয়ে সরু ক্যানেলে পরিণত হয়েছে। এসব সরু ক্যানেল দিয়ে চলাচলের সময় পণ্য ও যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত শ্যালো নৌকা প্রায়ই আটকা পড়ছে। এতে ওই নৌপথ প্রায় বন্ধের মুখোমুখি।
এছাড়া চৌহালী উপজেলার অর্ধলক্ষ চরাঞ্চলবাসীর সিরাজগঞ্জ সদরে যেতে যমুনা সেতু অথবা পাবনার বেড়া উপজেলা ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে এ রুটে চলাচলকারী মানুষের অর্থ ও সময় দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। অপরদিকে সোয়া ১ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগছে।
এলাকাবাসী জানান, যমুনায় পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় প্রায় দেড় মাস আগে যমুনা নদীর মাঝে বিশাল চর জেগে ওঠে। ফলে স্থানীয় নৌকা মালিকরা এ রুটটি সচল রাখতে নিজেদের চাঁদার টাকায় চর কেটে লোকাল ড্রেজিং শুরু করেন। কিন্তু তারা এ কাজে বেশি দূর পর্যন্ত যেতে পারেননি। অর্থাভাবে তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে।
এনায়েতপুর ঘাটের নৌকার মাঝি মামুন আলী ও স্বপন সরকার জানান, গত নভেম্বর মাস থেকে যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। এখন পানির গভীরতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। ফলে নদীতে জেগে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় ডুবোচর। বিশেষ করে এই নৌপথের সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের খাষইজারাপাড়া থেকে রানজানপুর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল চর জেগে উঠেছে। ফলে চৌহালী উপজেলা সদর থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত এনায়েতপুর বেড়িবাঁধ খেয়াঘাট এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যাত্রী ও পণ্য বোঝাই বড় বড় নৌযানগুলো এনায়েতপুরের উত্তরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যমুনা সেতু হয়ে অথবা দক্ষিণে প্রায় ২৮ কিলোমিটার ঘুরে পাবনার বেড়া উপজেলা হয়ে যাতায়াত করছে। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ-৫ (চৌহালী-বেলকুচি) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডল বলেন, সরকারিভাবে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথটি সচল রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলেছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা কাজ শুরু করবে।