ঝালকাঠির সীমান্তবর্তী কালিজিরা ব্রিজ থেকে শুরু করে জেলা সদরের উপর থেকে রাজাপুর উপজেলা হয়ে ভান্ডারিয়ার চড়খালী পর্যন্ত বরিশাল মঠবাড়িয়া অঞ্চলিক মহাসড়কের এ অংশের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। এ মহাসড়কে ঝালকাঠি জেলার মধ্যেই রয়েছে ৩১ কিলোমিটার মহাসড়ক।
একই সঙ্গে জেলার রাজাপুর-কাঁঠালিয়া হয়ে আমুয়া পর্যন্ত মহাসড়কের আরও ৩১ কিলোমিটার সড়ক ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুট প্রশস্তকরণের কাজে প্রকৌশল ও ঠিকাদারের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার্থী, পথচারী, বৃদ্ধ, শিশুসহ এলাকাবাসী পড়েছে সীমাহীন দুর্ভোগে, মুখ থুবড়ে পড়ছে জনজীবন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে সকল দোকানপাট এমনকি বাড়ি পর্যন্ত ধুলা থেকে বাঁচতে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। সড়কের চলমান উন্নয়নের মধ্যেই চলছে পরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন।
দোকানপাট,বাড়ি ঘর, গাছ-গাছালিতে ধুলার আস্তর পড়ে আছে। ধুলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মোটরসাইকেল আরোহী, পথচারী ও স্কুলগামী শিশুরা।
ধুলার কারণে সড়কের পাশে অবস্থিত বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বাসাবাড়িতে বসবাসরত মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এছাড়া প্রচণ্ড ধুলার কারণে মহাসড়কের পাশে বাস করা মানুষ শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় এক বছর আগে দুইশত পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল মঠবাড়িয়া ও রাজাপুর কাঁঠালিয়া হয়ে আমুয়া মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও বালু ও পাথর ফেলা ছাড়া এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এছাড়া ধীরগতির কাজ আর নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ধুলায় নাকাল মহাসড়কে চলাচলকারী মানুষগুলো। আঞ্চলিক মহাসড়কের এই উন্নয়নকাজের ধীর গতিতে জেলার প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়ক এখন ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এই ধুলার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে কোনো প্রযুক্তি হাতে না থাকলেও পানি ছিটানোর নির্দেশনা উন্নয়ন কাজগুলোর ঠিকাদারদের দেওয়া আছে। কিন্তু বাস্তবে এর রূপ ভিন্ন। মহাসড়কের উপর যেখানে বাজার রয়েছে সেখানে মাঝে মাঝে পানি ছিটানো হলেও বাকি সড়ক
ধুলায় আচ্ছন্ন থাকে সারা দিন। ধুলায় সড়ক আচ্ছন্ন থাকার কারণে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।
মহাসড়কের পাশে ছত্রকান্দা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল হক জানান, আজ প্রায় এক বছর পর্যন্ত ঘরের জানালা খুলতে পারি না। পলিথিন দিয়ে বাড়ির সামনের দিকটা মুড়িয়ে রেখেছি তার পরেও ধুলার কারণে পরিবারের সবার শ্বাসকষ্ট ও কাশি লেগেই রয়েছে। কবে এ উন্নয়নকাজ শেষ হবে জানি না। আমরা এ ধুলা থেকে মুক্তি চাই।
ঝালকাঠি কলেজ মোড়ের ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক চুন্নু হাওলাদার জানান, মোটরসাইকেল চালিয়ে আমরা সংসার চালাই। ধুলার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এখন আর আগের মতো মোটরসাইকেলে যাত্রী ওঠে না। যাত্রীর আশায় মহাসড়কে বসে থাকতে থাকতে ধুলায় আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি। আয় না থাকার কারণে আমাদের সংসার চালানো এখন দায় হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসাইন বলেন, উন্নয়নকাজের ফলে সৃষ্ট ধুলা নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রযুক্তি নেই তবে নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধুলা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
কাজে সংশ্লিষ্টরা পানি ছিটানোর কাজটি ঠিকমতো করছেন না বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ঠিকাদারদের মাধ্যমে রাস্তায় ঠিকভাবে পানি দেবার ব্যবস্থা করব। তা ছাড়া রাস্তায় পিস ঢালার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।