প্রথম দিনে মনোনয়নপত্র নিলেন ২৮ জন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম দিনে বিভিন্ন পদে প্রার্থিতার জন্য ২৮টি মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে হলগুলোর প্রাধ্যক্ষ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান। এদিন ১৮টি আবাসিক হলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে মনোনয়নপত্র নেন ভোটাররা। ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফরম নেওয়া যাবে।

এর মধ্যে মাস্টারদা সূর্য সেন হলে পাঁচটি, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে পাঁচটি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে চারটি, শামসুন্নাহার হলে দুটি, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে দুটি, বিজয় একাত্তর হলে একটি, সুফিয়া কামাল হলে একটি, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে পাঁচটি, অমর একুশে হলে একটি, জগন্নাথ হলে একটি এবং রোকেয়া হলে একটি। ফজলুল হক মুসলিম হল, স্যার এ এফ রহমান হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও কুয়েত মৈত্রী হল থেকে কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেনি। এর আগে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি-দাওয়া মানা না হলে ডাকসুতে প্যানেল না দেওয়ার কথা জানানো হয়। দাবি পূরণে আন্দোলন অব্যাহত রাখলেও আগামী ২২ বা ২৩ তারিখে মনোনয়ন সংগ্রহ করার ইঙ্গিত দেন বাম সংগঠনের নেতারা।

তফসিল অনুযায়ী ১১ মার্চ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে। সংশ্লিষ্ট হলের ভোটার (আবাসিক ও অনাবাসিক) তার নিজ হলের ভোটকেন্দ্রে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দেবে। হলে ভোটকেন্দ্র নিয়ে অনাপত্তি জানিয়ে বাস কমিটির সংবাদ সম্মেলন

এদিকে ছাত্রলীগের সঙ্গে একমত পোষণ করে হলে ভোটকেন্দ্র রাখার বিষয়ে অনাপত্তি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনে বিভিন্ন রুটের বাস কমিটিগুলোর নেতারা। গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত বাস রুটের নেতা ও ফাল্গুনী বাস কমিটির সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাপ্পী বলেন, ‘অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা হলের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পৃক্ত। সেখানে আমাদের যাতায়াত অবাধ। ডাকসু নির্বাচনের জন্য বর্তমানে হলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় আছে। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে এখানে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে আর কোনো জল ঘোলা হোক, তা আমরা চাই না।’ নির্বাচনে বিভিন্ন সংগঠন ও জোটের ইশতেহারে প্রত্যেক রুটে বাস বৃদ্ধি, নতুন ডাবল ডেকার বাস, বাসের রুট বৃদ্ধি, বিআরটিসির পক্ষ থেকে দক্ষ চালক ও হেলপার নিয়োগের দাবির অন্তর্ভুক্তি চান তারা। এদিকে সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে বাস কমিটির শীর্ষ নেতারা তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি বলে জানান একাধিক শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের ক্ষণিকা বাসের সভাপতি মো. রায়হান বলেন, বাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সাধারণ জরিপের ভিত্তিতে পাওয়া বক্তব্যই তারা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে সম্মিলিত বাস রুটের সমন্বয়ক রাকিব হাওলাদার বলেন, ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কোনো সংগঠন বা জোটের পক্ষ থেকে তাদের এখনো ডাকা হয়নি। ছাত্রলীগের নেতারা তাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের যেকোনো সংগঠন বা জোটের সঙ্গে ডাকসু নির্বাচনে যেতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।