জেলা ও দায়রা জজ আদালত বর্জন আইনজীবীদের, বিপাকে বিচারপ্রার্থীরা

কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বুধবার মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবীরা না যাওয়ায় বিভিন্ন মামলার বাদী ও আসামিপক্ষ বিপাকে পড়েছেন।

জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ গাজী রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে আইনজীবীরা তার আদালত বর্জন করেন।

মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি পল্লব ভট্টাচার্য তরুণ জানান, তিনি যথারীতি আদালতে যান এবং জেলা জজ মোহাম্মদ গাজী রহমান এজলাসে ওঠেন। কিন্তু আইনজীবীরা আদালতে না যাওয়ায় বিচারক কিছুক্ষণ এজলাসে অবস্থানের পর আদালত থেকে নেমে যান।

আইনজীবীরা কেন আদালতে যাননি এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান পিপি।

সকাল ১১টায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জজ আদালত ভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনজীবীরা অন্যান্য আদালতে গেলেও জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তাদেরকে যেতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে আইনজীবী ফরিদ হোসেন বললেন, মঙ্গলবার মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো আইনজীবী আজ জজ আদালতে যাননি। রোববার আইনজীবীরা সাধারণ সভা করে জজ আদালত বর্জনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম শাহিন জানান, মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ গাজী রহমানের স্বেচ্ছাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে এমন অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার একটি মামলায় একাধিক আইনজীবী আসামিপক্ষে ওকালতনামা দিয়ে জজ আদালতে ওই মামলার শুনানিতে অংশ নেন। এক মামলায় একাধিক আইনজীবীর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে বসেন বিচারক। তিনি ওই মামলার শুনানি নেবেন না বলে ঘোষণা দেন।

এই আইনজীবী নেতা বলেন, ওই ঘটনায় জজের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তারা তাৎক্ষণিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে জজ আদালত থেকে বেরিয়ে জরুরি সভা করে জজ আদালত করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। রোববার সাধারণ সভায় আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে আইনজীবীদের আদালত বর্জনে বিপাকে পড়েন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারপ্রার্থীরা। মেহেরপুর গাংনী উপজেলার বামুন্দী ইউনিয়নের তক্কেল হোসেন (৫২) বলেন, একটি মামলায় পরিবারের সবাইসহ ১৭ জনের হাজিরা ছিল। আইনজীবী কোনো কিছু না বলার কারণে কষ্ট করে গিয়েও আদালতে হাজিরা দিতে না পেরে তাদেরকে ফিরে যেতে হচ্ছে।

মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ দারা খান জানান, জজ আদালতে প্রবেশে বাধা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে সেই আশঙ্কায় আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

কিন্তু আইনজীবীরা স্বপ্রণোদিত হয়েই একটি আদালতে যাননি। পরিস্থিতি শান্ত থাকায় কিছুক্ষণ পরে অতিরিক্ত পুলিশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।